হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি সামরিক হামলার জেরে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। সংঘাতের আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে এক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) আন্তর্জাতিক বাজারের অন্যতম সূচক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২ শতাংশ বেড়েছে। এর আগে সোমবারও দাম বেড়েছিল ৯ দশমিক ৬ শতাংশ।
গ্রিনিচ মান সময় বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে সেপ্টেম্বর সরবরাহের জন্য ব্রেন্ট ফিউচার্সের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮৪ দশমিক ৯১ ডলারে ওঠে, যা গত ১৫ জুনের পর সর্বোচ্চ।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গত মাসে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে শান্তি আলোচনার পর তেলের বাজার কিছুটা স্থিতিশীল হয়েছিল। তবে ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক উত্তেজনা শুরুর আগের তুলনায় বর্তমান তেলের দাম এখনও প্রায় ১৭ শতাংশ বেশি।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, সোমবার ইরানে টানা তৃতীয় দিনের মতো অভিযান চালানো হয়েছে। তাদের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে বেসামরিক ও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করার ইরানের সক্ষমতা দুর্বল করাই এসব অভিযানের উদ্দেশ্য।
অন্যদিকে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) দাবি করেছে, পাল্টা জবাব হিসেবে তারা হরমুজ প্রণালিতে দুটি তেলবাহী সুপার ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে। পাশাপাশি কুয়েত ও বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবিও করেছে তারা।
পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর পুনরায় অবরোধ আরোপ করা হয়েছে। একই সঙ্গে এই নৌপথ ব্যবহারকারী জাহাজগুলোর কাছ থেকে ট্রানজিট ফি আদায়ের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্ল্যাটফর্ম মেরিনট্র্যাফিকের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার থেকে রোববার পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি দিয়ে মাত্র ৫৭টি জাহাজ চলাচল করেছে, যা আগের সপ্তাহের তুলনায় ৫০ শতাংশেরও বেশি কম।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালিতে সংঘাতের ঝুঁকি বাড়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে উদ্বেগ আরও তীব্র হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম আরও বাড়তে পারে এবং এর প্রভাব পড়তে পারে বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও।