ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ৯২০

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ২৭ জুন ২০২৬, ১২:০৭ পিএম

দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনিজুয়েলায় আঘাত হানা পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ৯২০ জনে পৌঁছেছে। দেশটির এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের ইতিহাসে এটিকে সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। বিপর্যয়ে অসংখ্য বাড়িঘর ও উঁচু ভবন মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো বহু মানুষ আটকা পড়ে আছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

শুক্রবার দেশটির জাতীয় পরিষদের সভাপতি হোর্হে রদ্রিগেজ আনুষ্ঠানিকভাবে জানান, ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৯২০ জনে দাঁড়িয়েছে। তিনি ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপ্রধান ডেলসি রদ্রিগেজের ভাই। এর আগে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপ্রধান জানিয়েছিলেন, এ দুর্যোগে প্রায় তিন হাজার মানুষ আহত হয়েছেন।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত লা গুয়াইরা প্রদেশ পরিদর্শনের সময় ডেলসি রদ্রিগেজ বলেন, বিভিন্ন দেশ থেকে উদ্ধারকারী দল দুর্গত এলাকায় পৌঁছাতে শুরু করেছে। তারা স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় ধ্বংসস্তূপে জীবিতদের খোঁজ চালানোর পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মধ্যে খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানীয় জল বিতরণ করছে।

তবে ক্ষয়ক্ষতির ব্যাপকতা বিবেচনায় বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ এগোলে প্রাণহানির সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। এদিকে ধসে পড়া ভবনের নিচে এখনো অসংখ্য মানুষ আটকে থাকার আশঙ্কা থাকলেও উদ্ধারকাজের ধীরগতিতে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মানুষের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে।

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা সতর্ক করে জানিয়েছে, শেষ পর্যন্ত এই দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা দশ হাজারেরও বেশি হতে পারে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা জানিয়েছে, এই ভূমিকম্পের প্রভাবে ভেনিজুয়েলার প্রায় আটষট্টি লাখ মানুষ প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। এর মধ্যে রাজধানী কারাকাসের প্রায় বিশ লাখ বাসিন্দাও রয়েছেন।

আন্তর্জাতিক লাল ক্রুশের আমেরিকা অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক লয়েস পেস বলেন, ভূমিকম্পের পর থেকে বারবার মৃদু কম্পন অনুভূত হওয়ায় মানুষ এখনো নিজেদের বাড়িতে ফিরতে ভয় পাচ্ছেন।

গত বুধবার সন্ধ্যায় ভেনিজুয়েলায় পরপর ৭ দশমিক ২ এবং ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কারণে রাজধানী কারাকাসের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।

তাসনিম হোসেন