চীনের রাজধানী বেইজিংয়ের সর্বোচ্চ ভবন সিটিক টাওয়ারে একটি ছোট বিমান আঘাত হেনেছে বলে দাবি করা হয়েছে। ঘটনার পর ভবনজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে নিরাপত্তার স্বার্থে দ্রুত সবাইকে সরিয়ে নেওয়া হয়। তবে হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
শুক্রবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, দুর্ঘটনায় কেউ হতাহত হয়েছেন কি না বা ভবনের কতটা ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য দেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে বিমানে কতজন ছিলেন, এটি কোথা থেকে উড্ডয়ন করেছিল এবং কী কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে, সেটিও এখনো নিশ্চিত নয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন দৃশ্যে দেখা যায়, প্রায় ৫২৮ মিটার উঁচু ভবনটির ওপরের অংশে বিমানটি আঘাত হানে। এতে ভবনের ওপর থেকে ধ্বংসাবশেষ নিচে পড়ে এবং উপস্থিত মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে দ্রুত ভবন থেকে লোকজনকে বেরিয়ে যেতে দেখা যায়।
এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, জরুরি নির্দেশনা পাওয়ার পর দ্রুত ভবন ত্যাগ করতে হয়। পরিস্থিতি এতটাই আকস্মিক ছিল যে, নিজের ব্যাগ বা পরিচয়পত্র নেওয়ারও সুযোগ পাননি তিনি।
ঘটনার পর পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ভবনের আশপাশের সড়ক বন্ধ করে সাধারণ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য ও কয়েকটি রোগীবাহী যান মোতায়েন করা হয়।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বিমানটির নিবন্ধন নম্বর ছিল বি-১২পিপি। এটি চীনের একটি প্রতিষ্ঠানের তৈরি সানওয়ার্ড এসএ৬০এল অরোরা মডেলের দুই আসনের হালকা বিমান বলে জানা গেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আরও দাবি করা হয়েছে, স্থানীয় একটি ব্যক্তিগত পাইলট প্রশিক্ষণ ও আকাশভ্রমণ সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান বিমানটি পরিচালনা করছিল। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়া হয়নি।
উল্লেখ্য, বেইজিংয়ে হালকা বিমান পরিচালনার জন্য চীনের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এবং দেশটির বিমানবাহিনীর অনুমোদন প্রয়োজন। সাম্প্রতিক সময়ে শহরটিতে বিনোদনমূলক উড্ডয়ন ও চালকবিহীন উড়ন্ত যন্ত্র পরিচালনার ক্ষেত্রেও কঠোর নিয়ম কার্যকর করা হয়েছে।