অবশেষে চুক্তি স্বাক্ষর করলো ইসরায়েল ও লেবানন

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ২৭ জুন ২০২৬, ১২:২৬ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় কয়েক দিনের আলোচনা শেষে ওয়াশিংটনে একটি কাঠামোগত সমঝোতায় পৌঁছেছে ইসরায়েল ও লেবানন। দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে এই সমঝোতা হলেও সীমান্তে ইসরায়েলি বাহিনী ও হিজবুল্লাহর মধ্যে বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষ এখনো থামেনি।

শুক্রবার স্বাক্ষরিত ১৪ দফার এই সমঝোতায় হিজবুল্লাহ অংশ নেয়নি। ফলে লিতানি নদীর দক্ষিণাঞ্চল থেকে সংগঠনটির যোদ্ধারা সরে যাবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, এই সমঝোতা ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে স্থায়ী শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে। ওয়াশিংটনের আশঙ্কা ছিল, ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর সংঘাত অব্যাহত থাকলে ইরানকে ঘিরে বৃহত্তর শান্তি উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

সমঝোতা অনুযায়ী, উভয় দেশ একে অপরের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের অধিকার স্বীকার করেছে এবং সার্বভৌম ও নিরাপদ প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসেবে বসবাসের অঙ্গীকার করেছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একে অপরের বিরুদ্ধে শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকা, বন্দি বিনিময় এবং নিহতদের মরদেহ ফেরত দেওয়ার বিষয়েও সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। তবে আত্মরক্ষার অধিকার উভয় পক্ষের জন্য বহাল থাকবে বলে চুক্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়েছে, লেবাননের সশস্ত্র বাহিনী পুরো দেশের ওপর রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করবে। এর আগে অ-রাষ্ট্রীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর নিরস্ত্রীকরণ এবং তাদের সামরিক স্থাপনা অপসারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ কাজে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় একটি সামরিক সমন্বয়কারী দল গঠন করা হবে। একই সঙ্গে আরব দেশসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতাও চেয়েছে লেবানন।

যদিও কূটনৈতিক অগ্রগতি হিসেবে এই সমঝোতাকে ইতিবাচকভাবে দেখা হচ্ছে, তবুও সীমান্তে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ একে অপরের বিরুদ্ধে সমঝোতা লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে বিচ্ছিন্ন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সংঘর্ষের তীব্রতা কিছুটা কমেছে।

লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠার পথে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচনা। অন্যদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, হিজবুল্লাহ সম্পূর্ণ নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার করা হবে না। বর্তমানে দেশটির বাহিনী লেবাননের প্রায় পাঁচ শতাংশ এলাকা নিয়ন্ত্রণে রেখেছে।

তিনি আরও জানান, পরীক্ষামূলকভাবে লেবাননের সেনাবাহিনীকে লিতানি নদীর দক্ষিণ ও উত্তর—এই দুটি এলাকায় নিরাপত্তার দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেওয়া হবে।

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলমান সংঘাতে ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৪ হাজার ১৯২ জন নিহত এবং ১১ হাজার ৬০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। এছাড়া বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ১২ লাখেরও বেশি মানুষ।

অন্যদিকে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের দাবি, এই সংঘাতে দেশটির ৩৬ জন সেনাসদস্য ও ৪ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।

তাসনিম হোসেন