চাঁদাবাজি ও দখলের মামলায় বিএনপি নেতা ও ছেলে কারাগারে

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ২৫ জুন ২০২৬, ০৫:৫১ পিএম

শরীয়তপুরের জাজিরায় চাঁদাবাজি, লুটপাট এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখলের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি সুরুজ মাদবর ও তাঁর ছেলে স্বাধীন মাদবরকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে মঙ্গলবার এ আদেশ দেন বিচারক।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শরীয়তপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক আয়েশা আক্তারের আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন সুরুজ মাদবর ও স্বাধীন মাদবর। শুনানি শেষে আদালত তাঁদের জামিন আবেদন খারিজ করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। বিষয়টি বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নিশ্চিত করেন বাদীপক্ষের আইনজীবী দিপু মিয়া।

মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, জাজিরা উপজেলার মানিকনগর এলাকার বাসিন্দা সোবহান মাদবরের কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে গত বছরের ২ ডিসেম্বর রাতে কাজীরহাট এলাকায় তাঁর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালানো হয়। এ সময় মালামাল লুট, নগদ অর্থ আত্মসাৎ এবং প্রায় ৪০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি করে প্রতিষ্ঠানটি দখল করে নেওয়া হয়।

ঘটনার পর গত বছরের ১২ ডিসেম্বর শরীয়তপুরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করা হয়। পরে চলতি বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি আদালত সুরুজ মাদবর ও স্বাধীন মাদবরের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

পরোয়ানা জারির পরও দীর্ঘ সময় তারা প্রকাশ্যে অবস্থান করলেও গ্রেপ্তার না হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে গত এপ্রিল মাসে তারা উচ্চ আদালত থেকে আট সপ্তাহের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন লাভ করেন। জামিনের মেয়াদ শেষ হলে মঙ্গলবার জেলা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করে পুনরায় জামিন আবেদন করেন তারা। তবে আদালত সেই আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মামলার বাদী সোবহান মাদবর বলেন, তাঁর কাছে চাঁদা দাবি করা হয়েছিল। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়ে তা দখলে নেওয়া হয়। ন্যায়বিচারের আশায় তিনি আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন বলে জানান।

এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সভাপতি বজলুর রশিদ শিকদার বলেন, কেউ অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক টিটু আখন্দ জানান, বিষয়টি জানার পর জেলা পর্যায়ের নেতাদের অবহিত করা হয়েছিল। তিনি বলেন, সুরুজ মাদবর বর্তমানে উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি পদে বহাল রয়েছেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী দিপু মিয়া বলেন, তাঁর মক্কেলের কাছ থেকে চাঁদা দাবি করা হয়েছিল। পরে আদালতে মামলা দায়ের করা হলে বিচারক জামিন আবেদন নাকচ করে অভিযুক্ত দুজনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আদালতে তাঁর মক্কেল ন্যায়বিচার পাবেন।

তাসনিম হোসেন