"দুর্নীতিকে উৎসাহিত করার উদ্দেশ্যেই সারোয়ার আলমকে প্রত্যাহার"

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ২৫ জুন ২০২৬, ০৭:২৩ পিএম

জাতীয় সংসদে বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে গাজীপুর-৪ আসনের বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য সালাহ উদ্দিন অভিযোগ করেছেন, দুর্নীতিকে উৎসাহিত করার উদ্দেশ্যেই সৎ ও ক্লিন ইমেজের কর্মকর্তা সারোয়ার আলমকে সিলেট থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে সালাহ উদ্দিন বলেন, দেশে দুর্নীতির মাত্রা উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। তাঁর দাবি, দুর্নীতি দমন কার্যক্রমে কার্যকর ভূমিকা রাখা কর্মকর্তাদের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে, যা দুর্নীতিবাজদের সুবিধা দিচ্ছে।

তিনি অভিযোগ করেন, স্কুল ফিডিং কর্মসূচিতে ডিম, রুটি ও কলা সরবরাহের নামে প্রতি সপ্তাহে প্রায় ১৭ কোটি টাকা লুটপাট হচ্ছে। একই সঙ্গে খাল খনন প্রকল্পসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে নিয়মিতভাবে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সালাহ উদ্দিন বলেন, বর্তমানে ঘুষ গ্রহণ অনেক ক্ষেত্রে একটি ‘নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায়’ পরিণত হয়েছে। তাঁর ভাষায়, বিভিন্ন কাজে ক্যালকুলেটর ব্যবহার করে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত ঘুষ নির্ধারণ করা হচ্ছে, যা প্রশাসনিক দুর্নীতির গভীরতা প্রকাশ করে।

প্রস্তাবিত বাজেটকে সমালোচনা করে তিনি বলেন, অর্থমন্ত্রী যেটিকে উন্নয়ন ও আশার বাজেট হিসেবে তুলে ধরেছেন, সেটি বাস্তবে একটি ‘আষাঢ়ের গল্প’ ছাড়া কিছু নয়। প্রায় পৌনে তিন লাখ কোটি টাকার ঋণনির্ভর এই বাজেট দেশের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, বাজেট ঘোষণার আগেই ১৪টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েছে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ, জ্বালানি তেল ও এলপিজি গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির কারণে পরিবহন খরচও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এমএস রড, ইস্পাত, টিন, সাবান ও শ্যাম্পুর কাঁচামালের ওপর কর ও ভ্যাট বৃদ্ধিরও সমালোচনা করেন তিনি।

বক্তব্যের শেষাংশে তিনি নিজের নির্বাচনী এলাকা কাপাসিয়ার উন্নয়নে কয়েকটি দাবি উত্থাপন করেন। এর মধ্যে রয়েছে আধুনিক হিমাগার নির্মাণ, মাদক ও কিশোর গ্যাংবিরোধী বিশেষ অভিযান এবং রাজেন্দ্রপুর–কাপাসিয়া–টোক সড়ক চার লেনে উন্নীত করার জন্য বিশেষ বরাদ্দ।

তাসনিম হোসেন