৭ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন স্বর্ণের দাম!

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ২৫ জুন ২০২৬, ০৬:২৩ পিএম

শক্তিশালী মার্কিন ডলার এবং যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোর মুদ্রানীতির ইঙ্গিতের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে উল্লেখযোগ্য পতন ঘটেছে। দীর্ঘদিন পর আউন্সপ্রতি স্বর্ণের দাম চার হাজার ডলারের নিচে নেমে এসেছে, যা বাজারে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে

আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম ধারাবাহিকভাবে কমতে থাকায় বুধবার আউন্সপ্রতি স্পট স্বর্ণের মূল্য চার হাজার ডলারের নিচে নেমে যায়। ২০২৫ সালের নভেম্বরের পর এই প্রথম মূল্যবান ধাতুটির দাম এ পর্যায়ে নেমে এলো।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন ডলারের মান শক্তিশালী হওয়ায় অন্যান্য দেশের ক্রেতাদের জন্য স্বর্ণ কেনার খরচ বেড়ে গেছে। ফলে স্বর্ণের চাহিদা কমে যাওয়ার পাশাপাশি দামেও চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সাম্প্রতিক নীতি সভায় সুদের হার দীর্ঘ সময় উচ্চ পর্যায়ে রাখার ইঙ্গিত দিয়েছে। এর ফলে বিনিয়োগকারীরা ভবিষ্যতে আরও সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়ে স্বর্ণে বিনিয়োগ কমিয়ে দিচ্ছেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, সুদের হার বাড়লে স্বর্ণের মতো সম্পদের আকর্ষণ কমে যায়। কারণ স্বর্ণ থেকে সরাসরি কোনো সুদ বা মুনাফা পাওয়া যায় না। অন্যদিকে উচ্চ সুদে অন্যান্য আর্থিক খাতে বিনিয়োগ তুলনামূলক বেশি লাভজনক হয়ে ওঠে।

চলমান ইরান যুদ্ধকে ঘিরে বিশ্ব অর্থনীতিতে দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতির আশঙ্কাও বাজারে প্রভাব ফেলছে। এতে বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকি মূল্যায়ন করে স্বর্ণের বাজার থেকে কিছুটা সরে আসছেন।

ধাতু বাজার বিশেষজ্ঞ তাই ওয়াং বলেন, ফেডারেল রিজার্ভের কঠোর অবস্থান, ডলারের শক্তিশালী অবস্থান এবং মূল্যস্ফীতি কমার প্রত্যাশা—সব মিলিয়ে স্বর্ণসহ মূল্যবান ধাতুগুলোর ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। তবে আউন্সপ্রতি তিন হাজার ৯০০ ডলারের কাছাকাছি একটি শক্তিশালী ভিত্তি রয়েছে এবং বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক এখনও স্বর্ণ কেনা অব্যাহত রেখেছে। ফলে বাজারে বড় ধরনের ধসের আশঙ্কা নেই, যদিও কিছু সময় স্থবিরতা বা মন্দাভাব থাকতে পারে।

চলতি বছরের জানুয়ারির শেষদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে আউন্সপ্রতি স্বর্ণের দাম রেকর্ড পাঁচ হাজার ৫৯৪ দশমিক ৮২ ডলারে উঠেছিল। সেই সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে বর্তমানে স্বর্ণের দাম প্রায় দেড় হাজার ডলারের বেশি কমেছে।

স্বর্ণের দামের এই ধারাবাহিক পতনের পর নেদারল্যান্ডসভিত্তিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইএনজিও তাদের পূর্বাভাস সংশোধন করেছে। প্রতিষ্ঠানটির নতুন পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে আউন্সপ্রতি স্বর্ণের গড় দাম হতে পারে চার হাজার ৩০০ ডলার, যা আগে চার হাজার ৮৫০ ডলার ধরা হয়েছিল। একইভাবে চতুর্থ প্রান্তিকে গড় মূল্য চার হাজার ৬০০ ডলার হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যেখানে আগের পূর্বাভাস ছিল পাঁচ হাজার ডলার।

বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, আগামী কয়েক মাসে যুক্তরাষ্ট্রের সুদের হার, ডলারের গতিপ্রকৃতি এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি স্বর্ণের দামের ওপর সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলবে।

তাসনিম হোসেন