চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং ও প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরকালে দুই দেশের মধ্যে একাধিক সমঝোতা স্মারক সই এবং বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও কৌশলগত সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।
বৃহস্পতিবার বেইজিংয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন জানান, স্থানীয় সময় বিকেল ৫টায় বেইজিংয়ের গ্রেট হলে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠক শেষে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ১৫টি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর হবে। পরে চীনের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশি প্রতিনিধিদলের সম্মানে রাষ্ট্রীয় ভোজের আয়োজন করবেন।
তিনি আরও জানান, শুক্রবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১০টায় একই স্থানে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাক্ষাৎ নির্ধারিত রয়েছে। বৈঠকগুলোতে বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয় তুলে ধরা হবে।
মাহদী আমিন বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফর। সফরের প্রথম ধাপে তিনি মালয়েশিয়া সফর করেন এবং দেশটির প্রধানমন্ত্রী, রাজাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সেখানে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে আলোচনা হয়।
সফরের দ্বিতীয় ধাপে প্রধানমন্ত্রী চীনের দালিয়ানে অনুষ্ঠিত ‘নিউ চ্যাম্পিয়নস’ বার্ষিক সম্মেলনে অংশ নেন। সেখানে বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধান ও আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক নেতাদের সঙ্গে তাঁর মতবিনিময় হয়। সম্মেলনে তিনি জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় সরকারের সাম্প্রতিক উদ্যোগগুলো তুলে ধরেন।
তৃতীয় ধাপে চীনের প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে বুধবার বেইজিং পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তাঁকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা, লালগালিচা সংবর্ধনা এবং আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা জানানো হয়। সফরে তাঁর সঙ্গে ২৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল রয়েছে, যার মধ্যে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টা পর্যায়ের ১১ জন রয়েছেন।
মুখপাত্র জানান, সফরের প্রধান লক্ষ্য হলো বাংলাদেশের ভূ-কৌশলগত অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে চীনা বিনিয়োগ আকর্ষণ, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং শিক্ষা, সংস্কৃতি, তথ্যপ্রযুক্তি ও স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতা আরও জোরদার করা।
বৃহস্পতিবার চীনের পানিসম্পদমন্ত্রী লি গোওইংয়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে তিস্তা মহাপরিকল্পনা, নদী ব্যবস্থাপনা, বন্যা ঝুঁকি মোকাবিলা, নদী খনন, নদীভাঙন রোধ এবং সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হয়। চীনা পক্ষ গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নে সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করে।
একই দিনে ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’ শীর্ষক বিনিয়োগ সম্মেলনে অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী চীনা বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক সংস্কারের মাধ্যমে বাংলাদেশ উৎপাদন ও শিল্প খাতের জন্য একটি প্রতিযোগিতামূলক ও লাভজনক গন্তব্যে পরিণত হচ্ছে।
তিনি জানান, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে সরকার ১৮০ দিনের বিশেষ কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। পাশাপাশি অর্থনৈতিক অঞ্চল উন্নয়ন, বিদেশে বিনিয়োগ সহায়তা কেন্দ্র স্থাপন এবং অগ্রাধিকারভিত্তিক খাতে বিশেষ প্রণোদনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এদিকে বেইজিংয়ের দিয়াওইউতাই অতিথি ভবনে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইক্সিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন তারেক রহমান। বৈঠকে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সহযোগিতা, টেকসই প্রবৃদ্ধি এবং পারস্পরিক সমৃদ্ধি নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় বিএনপি ও চীনের কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারকও সই হয়।
মাহদী আমিন বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও গভীর করতে এ সফর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সফরের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে কৌশলগত সহযোগিতা, বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও জনগণের পারস্পরিক সম্পর্ক নতুন মাত্রা পাবে।
তিনি আরও জানান, চীনের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে রাতেই বিস্তারিত তথ্য জানাতে পৃথক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হবে।