রায়পুরে ভাড়া বাসায় একই পরিবারের চারজনকে গলা কেটে হত্যা; গণপিটুনিতে ঘাতক নিহত

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ২৫ জুন ২০২৬, ০৮:৩৯ পিএম

নিহতরা হলেন শাহীনুর বেগম (৩৮), তার বড় মেয়ে ছায়মা (২১), মেজ মেয়ে কলেজ শিক্ষার্থী ইকরা আক্তার (১৮) এবং ছোট মেয়ে শিফা আক্তার (৯)। তাদের বাড়ি কুমিল্লা জেলার হোমনা থানাধীন লটিয়া গ্রামে। তারা ওই এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে পৌর শহরের দেনায়েতপুর (গোডাউন রোড) এলাকার একটি ভবন থেকে একই পরিবারের তিনজনের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বাকী একজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা পাঠানো হলে পথিমধ্যে তিনিও মৃত্যুবরন করেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েক বছর আগে শাহীনুর বেগমের স্বামী মো. কামাল বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান। এরপর থেকে তিন মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে তিনি ওই বাসায় বসবাস করছিলেন। বৃহস্পতিবার  সকালে দুর্বৃত্তের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে শাহীনুর ও তার তিন মেয়ে গুরুতর আহত হন। পরে তাদের হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তবরত চিকিৎসক শাহীনুর, ইকরা ও শিফাকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত ছায়মাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা পাঠানো হয়েছে।

এ ঘটনার পর স্থানীয় জনতা জহির হোসেন নামে এক ভ্রাম্যমাণ ফল বিক্রেতাকে ওই বাসা থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টাকালে আটক করে গণপিটুনি দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে চিকিৎসার জন্য লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে পাঠানো হলে তিনিও মৃত্যুবরন করেন।

রায়পুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. আব্দুর রাশেদ বলেন, ‘ঘটনায় তিনজন নিহত হয়েছেন। একজনকে আশষ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। সন্দেহভাজন এক যুবককে জনতা গণপিটুনি দিয়েছে। ঘটনাস্থল ও আশপাশের পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। হত্যাকাণ্ডের কারণ এবং এর সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কিনা, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

প্রতিবেশী জনৈক মহিলা বলেন, চিৎকার শুনে আমি তাদের বাসার সামনে গিয়ে ডাকাডাকি করলে চিৎকার থেমে যায় এবং কোন জবাব পাইনি। পরে জানালা দিয়ে এক ব্যক্তিকে কিচেন রুমের দিকে যেতে দেখি। প্রথমে ভাবছিলাম তাদের কোন আত্মীয় হবে। হয়তো কোন বিষয় নিয়ে ঝগড়া করছে। লোকটিকে বাসার গেইটে দেখে আমি তার পরিচয় জানতে চাইলে সে জানায় বাথরুমের টেপ মেরামত করতে এসেছে। একথা বলে দরজা বন্ধ করে দিলে আমার সন্ধেহ হয় যে, হয়তো সে ওই বাসার কোন ধর্ষণ করেছে। কারণ, তখন সম্ভবত সে উলঙ্গ ছিলো, আমি ভালো করে দেখতে পাইনি। এরপর আমি চিৎকার করে সবাইকে ডাকলে সে ছাদের দিকে উঠে পালিয়ে যেতে চায়। পরবর্তিতে লোকজন এসে ভিতরে ঢুকে ফ্লোরে রক্ত ও চারজনের দেহ রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে ফোন দেয়।

লক্ষ্মীপুরের পুলিশ সুপার মো: আবু তারেক বলেন, রায়পুরে একটি ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় একই পরিবারের তিনজন সদস্য মারা গেছেন। মা ও দুই মেয়ে নিহত হয়েছে , আরেক মেয়ে গুরুতর আহত হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।  আর এই ঘটনায় অভিযুক্তকে স্থানীয়রা হাতেনাতে ধরে গণপিটুনি দেয়। পরে পুলিশ এসে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠায়। এই ব্যাপারে আমরা বিস্তারিত তদন্ত করে দ্রুতই ব্যবস্থা নেব এবং আপনাদেরকে জানাবো।

তাসনিম হোসেন