খামেনির শোকানুষ্ঠানে ৯ দেশকে ৯ আয়াতের তেলাওয়াত: নেপথ্যে গভীর কূটনৈতিক বার্তা!

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৫ জুলাই ২০২৬, ০৭:২৯ পিএম

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানে অংশ নেওয়া বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদলের জন্য ভিন্ন ভিন্ন পবিত্র কোরআনের আয়াত তেলাওয়াত করা হয়েছে। তেহরানের ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লা কমপ্লেক্সে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে তোলপাড় চলছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি কেবল ধর্মীয় তেলাওয়াত ছিল না, বরং আধ্যাত্মিক প্রতীকবাদের আড়া

ভিডিওতে দেখা যায়, বিদেশি প্রতিনিধিদলগুলো যখন একে একে খামেনির কফিনের কাছে গিয়ে শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন, তখন প্রতিটি দেশের আগমন অনুযায়ী আলাদা আলাদা অর্থপূর্ণ আয়াত তেলাওয়াত করা হচ্ছে:

  • বাংলাদেশ (শহীদদের প্রতীকী স্বীকৃতি): ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক জুলাই বিপ্লবে শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান জানিয়ে সূরা আলে ইমরানের ১৬৯-১৭০ নম্বর আয়াত তেলাওয়াত করা হয়, যার অর্থ— "যারা আল্লাহর পথে নিহত হয়েছে তাদেরকে মৃত মনে করো না; বরং তারা জীবিত ও রিজিকপ্রাপ্ত।"

  • সৌদি আরব ও তুরস্ক (সূক্ষ্ম ভর্ৎসনা): মুসলিম উম্মাহর সংকটে নিষ্ক্রিয় ভূমিকার কারণে তুরস্ককে সূরা আন-নিসার ৯৫ নম্বর আয়াতের মাধ্যমে (যারা ঘরে বসে থাকে আর যারা জিহাদ করে তারা সমান নয়) এবং আমেরিকাকে পরোক্ষ সহযোগিতার নীতিকে ইঙ্গিত করে সৌদি প্রতিনিধিদলকে সূরা আলে-ইমরানের ১৩ নম্বর আয়াতের মাধ্যমে ভরা মজলিশে এক ধরণের সূক্ষ্ম কূটনৈতিক ভর্ৎসনা করা হয়।

  • রাশিয়া, আফগানিস্তান ও ভারত (বন্ধুত্বের সার্টিফিকেট): রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর মার্কিন বাহিনীকে তাড়ানোয় আফগানিস্তানকে সূরা আল-ফাতাহর মাধ্যমে 'বিজয়ের অভিনন্দন' জানানো হয়। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা ও চাপ সত্ত্বেও সম্পর্ক বজায় রাখায় ভারতকে সূরা আলে-ইমরানের ১৭৩ নম্বর আয়াত এবং চরম সংকটেও সামরিক-কূটনৈতিক 'ওয়াদা' রক্ষা করায় রাশিয়ার জন্য সূরা আল-আহযাবের ২৩ নম্বর আয়াত তেলাওয়াত করে অটল বন্ধুত্বের অনন্য সার্টিফিকেট দেয় ইরান।

  • ফিলিস্তিন ও কাতার (লড়াই ও মধ্যস্থতার সাধুবাদ): ফিলিস্তিনি প্রতিনিধিদের সামনে সূরা বনি ইসরাইলের প্রথম আয়াত (মসজিদে আকসার বিবরণ) পড়ে বার্তা দেওয়া হয় যে, খামেনির বিদায়ের পরও আল-আকসা মুক্ত করার লড়াই ইরানের প্রধান এজেন্ডা থাকবে। পাশাপাশি, সফল স্বাধীন কূটনৈতিক মধ্যস্থতার জন্য কাতারকে সূরা আল-ফাতহ শুদিয়ে সাধুবাদ জানানো হয়। এছাড়া উম্মাহর ঐক্যে ভূমিকা রাখতে পাকিস্তানকে সূরা বনি ইসরাইলের ৮০ নম্বর আয়াতের মাধ্যমে 'সাহায্যকারী শক্তি' হওয়ার আহ্বান জানায় তেহরান।

তাসনিম হোসেন