তাপপ্রবাহে ইংল্যান্ড-ওয়েলসে দুই মাসে প্রাণ গেল ২ হাজার ৭০০ জনের

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০২:২২ পিএম

মে ও জুনজুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে অন্তত ২ হাজার ৭০০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে। গবেষকদের মতে, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণেই এ ধরনের চরম তাপপ্রবাহ আরও ঘন ঘন ও তীব্র আকারে দেখা দিচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠছে।

সোমবার প্রকাশিত এক গবেষণায় জানানো হয়েছে, চলতি বছরের মে ও জুন মাসে তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে অন্তত ২ হাজার ৭০০ জনের অতিরিক্ত মৃত্যু হয়েছে। গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডন, যুক্তরাজ্যের আবহাওয়া দপ্তর এবং লন্ডন স্কুল অব হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিনের বিশেষজ্ঞরা।

গবেষণায় আবহাওয়ার তথ্য, জলবায়ু মডেল এবং তাপপ্রবাহের সময় অতিরিক্ত মৃত্যুর হার নিয়ে আগের বিভিন্ন গবেষণার তথ্য বিশ্লেষণ করে এই হিসাব নির্ধারণ করা হয়েছে।

একই সময়ে শুধু যুক্তরাজ্য নয়, পশ্চিম ইউরোপের বিভিন্ন দেশও নজিরবিহীন তাপপ্রবাহের মুখে পড়ে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, জুনের শেষ দিকে ইউরোপজুড়ে ছড়িয়ে পড়া তীব্র গরমে ১০ হাজারের বেশি অতিরিক্ত মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে ৯ হাজারেরও বেশি মানুষের বয়স ছিল ৬৫ বছর বা তার বেশি।

এ সময় ইংল্যান্ডে মে মাসে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩৫ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। জুনে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩৭ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা মাসভিত্তিক নতুন রেকর্ড।

যুক্তরাজ্যের আবহাওয়া দপ্তরের জলবায়ু বিশ্লেষণ দলের বিজ্ঞানবিষয়ক ব্যবস্থাপক মার্ক ম্যাকার্থি বলেন, বছরের এত শুরুর দিকে এমন তীব্র তাপপ্রবাহ অত্যন্ত অস্বাভাবিক। এটি শুধু যুক্তরাজ্য নয়, পুরো পশ্চিম ইউরোপের জন্যই একটি চরম আবহাওয়াজনিত ঘটনা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত গরমে হিট স্ট্রোকের পাশাপাশি হৃদ্‌রোগ ও শ্বাসতন্ত্রের রোগের জটিলতা বেড়ে যায়, ফলে মৃত্যুঝুঁকিও বৃদ্ধি পায়। বিশেষ করে বয়স্ক ব্যক্তিরা এ ধরনের তাপপ্রবাহে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে থাকেন।

ডেনমার্কের রাষ্ট্রীয় রোগতত্ত্ব গবেষণা প্রতিষ্ঠানের প্রধান চিকিৎসক লাসে ভেস্টারগার্ড বলেন, বছরের এই সময়ে এত বেশি অতিরিক্ত মৃত্যুর ঘটনা অত্যন্ত অস্বাভাবিক। তাঁর মতে, তীব্র তাপপ্রবাহ ছাড়া এমন মৃত্যুহার ব্যাখ্যা করা কঠিন।

গবেষকদের দাবি, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তন না হলে জুনের শেষ দিকের এই তাপপ্রবাহ কার্যত ঘটত না। তারা সতর্ক করে বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে এ ধরনের চরম তাপপ্রবাহ আরও ঘন ঘন এবং আরও ভয়াবহ রূপে দেখা দিতে পারে।

 
 

তাসনিম হোসেন