রাবিপ্রবি প্রতিনিধিঃ দেশের চলমান বন্যা পরিস্থিতি বিবেচনায় সংক্ষিপ্ত কর্মসূচির মধ্য দিয়ে রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবিপ্রবি) উদযাপিত হয়েছে ‘বিশ্ববিদ্যালয় দিবস-২০২৬’।
এবারের বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল ‘টেকসই আগামীর স্পন্দন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির মেলবন্ধন’।
সকালে প্রশাসনিক ভবন-১ এর সামনে জাতীয় পতাকা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলন এবং জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে দিবসের উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. জয়নুল আবেদীন সিদ্দিকী। অনুষ্ঠানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
আধুনিক কাতারের স্থপতি ও সাবেক আমীর শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানি-এর মৃত্যুতে রাষ্ট্রীয় শোক পালনের অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়। দিবসটি উপলক্ষে ক্যাম্পাসে বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষরোপণও করা হয়।
পরে একাডেমিক ভবন-১ এর সভাকক্ষে পবিত্র ধর্মগ্রন্থ পাঠের মাধ্যমে আলোচনা সভা শুরু হয়। অনুষ্ঠানে ‘এক নজরে রাবিপ্রবি’ শীর্ষক একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়, যেখানে ২০১৫ সালে অস্থায়ী ক্যাম্পাসে একাডেমিক কার্যক্রম শুরুর পর থেকে স্থায়ী ক্যাম্পাসে স্থানান্তর এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরা হয়।
এসময় উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ওয়েবসাইট উদ্বোধন করেন।
আলোচনা সভায় বক্তব্যের শুরুতে উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাকালীন উপাচার্য ও প্রকল্প পরিচালক প্রয়াত প্রফেসর ড. প্রদানেন্দু বিকাশ চাকমা এবং তাঁর সহকর্মীদের অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠার শুরু থেকে শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের অবদানও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, "২০০১ সালের আইনে প্রণীত ৯ নভেম্বর ২০১৫ সালে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয়েছিল এবং দুইটি বিভাগ (সিএসই, ম্যানেজমেন্ট) নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পথচলা শুরু হয়েছিল যা এখন সুন্দর পাহাড় এবং হ্রদবেষ্টিত স্থানে স্থান পেয়েছে।"
তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য যাঁরা ভূমি ত্যাগ করেছেন, তাঁদের আত্মত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন তখনই হবে, যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে সবাই মিলে প্রতিষ্ঠানটিকে কাঙ্ক্ষিত উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারবেন।
অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন. "আমাদের মধ্যে মতের পার্থক্য থাকতে পারে কিন্ত কিভাবে সামাজিক অর্ন্তভুক্তির (ইনক্লুসিভনেস) দিকে আরো এগিয়ে যাওয়া যায় সেজন্য আমরা বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা না করে, সবাই মিলে যদি এ প্রতিষ্ঠানের জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাই, তাহলে নিশ্চিত আমাদের পেছনে ফিরে তাকাতে হবে না।"
উপাচার্য বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণশক্তি হলো শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সম্মিলিত অংশগ্রহণ। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব শুধু জ্ঞান বিতরণ নয়, নতুন জ্ঞান সৃষ্টি করাও। আর এজন্য প্রয়োজন দক্ষ ও গবেষণামুখী শিক্ষক এবং সক্রিয় শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ।
তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিসিএস, গণিত অলিম্পিয়াড, আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় জুডো ও কারাতে প্রতিযোগিতা, প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা এবং ফুলব্রাইট স্কলারশিপ অর্জনের জন্য অভিনন্দন জানান। একইসঙ্গে বিদেশ থেকে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করা দুই শিক্ষক এবং কিউ-ওয়ান (Q1) জার্নালে গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশকারী নয়জন শিক্ষককে শুভেচ্ছা জানান।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ জুনাইদ কবির, ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন ড. মুহাম্মদ রহিম উদ্দিন, সায়েন্স, ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি অনুষদের ডিন ড. তৌহিদুল আলম, ফরেস্ট্রি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স বিভাগের চেয়ারম্যান ড. নিখিল চাকমা, ম্যানেজমেন্ট বিভাগের চেয়ারম্যান মোহনা বিশ্বাস, শিক্ষক সমিতির সভাপতি সপ্তর্ষি চাকমা, অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সেতু চাকমা, হিসাবরক্ষক আসমা আক্তার এবং শিক্ষার্থীদের পক্ষে মো. নাসিরুদ্দীন অর্ণব।
সভাপতির বক্তব্য দেন কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. তানজিম মাহমুদ।
আলোচনা সভা শেষে উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের রিসার্চ ইনোভেশন সেন্টার (আরআইসি) উদ্বোধন করেন।
পরে বাঘাইছড়ি ও বিলাইছড়ির বন্যাদুর্গত মানুষের মাঝে বিতরণের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ত্রাণ উপ-কমিটি এবং শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে গঠিত স্বেচ্ছাসেবী কমিটির কাছে ত্রাণসামগ্রী হস্তান্তর করেন তিনি।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের প্রভাষক ফাহিম হোসেন। পবিত্র ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠ করেন এফএমআরটি বিভাগের শিক্ষার্থী মো. সাওবান, ম্যানেজমেন্ট বিভাগের চৈতী রুদ্র ও নার্সি চাকমা এবং টিএইচএম বিভাগের রুথিনা বেসরা।
উল্লেখ্য, ‘রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০০১’ অনুযায়ী ২০০১ সালের ১৫ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০১৩ সালে একনেক প্রকল্প অনুমোদনের পর ২০১৫ সালের ৯ নভেম্বর কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং এবং ম্যানেজমেন্ট এই দুই বিভাগ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টির আনুষ্ঠানিক একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয়।