রাজধানীর ট্রাফিক নজরদারিতে এআই ক্যামেরার পর নতুন প্রযুক্তি আনছে ডিএমপি

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৬:৩৯ পিএম

রাজধানীর যান চলাচল আরও সুশৃঙ্খল করতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ। বর্তমানে ব্যবহৃত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর ক্যামেরার পাশাপাশি কম খরচে নতুন ধরনের ক্যামেরা স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এতে কম ব্যয়ে রাজধানীর আরও বিস্তৃত এলাকায় নজরদারি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে মনে করছে পুলিশ।

ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (যান চলাচল) মো. আনিছুর রহমান রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং আইন কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নতুন ধরনের ক্যামেরা ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব যন্ত্রের মাধ্যমে রাজধানীর অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সহজেই নজরদারি চালানো সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, বর্তমানে ব্যবহৃত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর ক্যামেরাগুলো কার্যকর হলেও এগুলোর স্থাপন ব্যয় তুলনামূলক বেশি। তাই স্বল্প ব্যয়ে দ্রুত নজরদারির পরিধি বাড়ানোর লক্ষ্যেই নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী এসব ক্যামেরার সংখ্যা বাড়ানো হলে সড়কে আইন মেনে চলার প্রবণতা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, গত দুই মাসে আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থার সুফল পাওয়া গেছে। নগরবাসী স্বতঃস্ফূর্তভাবে সড়ক আইন মেনে চলছেন, সংকেত অনুসরণ করছেন এবং নতুন উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছেন। এতে প্রমাণ হয়েছে, সচেতনতা বাড়লে কঠোর ব্যবস্থা ছাড়াও নিয়ম প্রতিষ্ঠা সম্ভব।

রাজধানীর যানজটের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আনিছুর রহমান বলেন, একই সড়কে যান্ত্রিক ও অযান্ত্রিক যানবাহনের চলাচল, ব্যাটারিচালিত যানবাহনের অনিয়ন্ত্রিত বিস্তার এবং যানবাহনের অতিরিক্ত সংখ্যা যানজটের অন্যতম কারণ। পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক অনুপযুক্ত যানবাহনও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

তিনি বলেন, উন্নত ও কার্যকর গণপরিবহন ব্যবস্থা ছাড়া রাজধানীর মতো জনবহুল শহরে সুশৃঙ্খল যাতায়াত নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। একই সঙ্গে পথচারীদের অসচেতনভাবে যত্রতত্র সড়ক পারাপারের প্রবণতাও যান চলাচলে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি করছে। অনেক ক্ষেত্রেই সংকেত থাকা সত্ত্বেও অপেক্ষা না করে পথচারীরা সড়কে নেমে পড়েন, যা যান চলাচলের স্বাভাবিক গতি ব্যাহত করে।

অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা শুধু আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দায়িত্ব নয়; সড়ক ব্যবহারকারীদের দায়িত্বশীল আচরণও সমান গুরুত্বপূর্ণ। নাগরিকদের মানসিকতা ও অভ্যাসে পরিবর্তন না এলে কাঙ্ক্ষিত উন্নতি অর্জন কঠিন হবে।

তিনি আরও জানান, রাজধানীর যেসব এলাকায় সব সময় যানবাহনের চাপ বেশি থাকে, সেসব স্থানে অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়। বর্তমানে প্রায় ২৫টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন পুলিশ সদস্যরা। তবে ভবিষ্যতে শুধু জনবলনির্ভর নয়, প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনার ওপর আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে, যাতে রাজধানীর যান চলাচল আরও কার্যকর ও সুশৃঙ্খল করা যায়।

 
 

তাসনিম হোসেন