বিশ্বমানের নাগরিক গড়তে আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা তৈরি করছে সরকার: ববি হাজ্জাজ

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ১২ জুলাই ২০২৬, ০৭:২০ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

নতুন প্রজন্মকে বিশ্বমানের দক্ষ ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা বাস্তবায়নে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। রোববার (১২ জুলাই) আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের নতুন পাঠ্যপুস্তকের কাঠামো চূড়ান্তকরণ কর্মশালায় তিনি এ কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখার সময় শিক্ষাপ্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমান শিক্ষাকাঠামোতে শুধু প্রথাগত পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে প্রতিটি বিষয়ের সাথে শিক্ষক নির্দেশিকা (গাইড), অনুশীলন খাতা (ওয়ার্কবুক), রেমিডিয়াল গাইড এবং ভিডিওভিত্তিক পাঠ যুক্ত করা হচ্ছে। এর ফলে শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষের ভেতরের পাশাপাশি বাইরের পরিবেশ থেকেও শেখার সমান সুযোগ পাবে। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষাকে নতুন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ও গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ হিসেবে অভিহিত করেছেন। সেই রূপকল্পকে সামনে রেখেই ২০২৮ সালের জন্য একটি সময়োপযোগী, যোগ্যতাভিত্তিক ও বৈশ্বিক মানসম্পন্ন জাতীয় শিক্ষাক্রম প্রণয়নের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে।

নতুন এই পাঠ্যক্রমের মূল উদ্দেশ্য সম্পর্কে ববি হাজ্জাজ বলেন, শিক্ষার্থীদের মুখস্থ বিদ্যার বৃত্ত থেকে বের করে এনে তাদের মধ্যে বাস্তব জীবনের সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা, নেতৃত্ব গুণ, দলগতভাবে কাজ করার মানসিকতা এবং মানবিক মূল্যবোধের বিকাশ ঘটানোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। তাত্ত্বিক ও পুঁথিগত বিদ্যার চেয়ে ব্যবহারিক শিক্ষাকে প্রাধান্য দিয়ে বাস্তব জীবনের সাথে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার মেলবন্ধন আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে।

তরুণ প্রজন্মের মানসিক ও নৈতিক উৎকর্ষ সাধনে সাংস্কৃতিক চর্চা ও ক্রীড়া শিক্ষাকে অপরিহার্য হিসেবে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সংস্কৃতি শিক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও জাতীয় মূল্যবোধ লালন করতে শিখবে। অন্যদিকে, ক্রীড়া শিক্ষার মাধ্যমে তাদের মাঝে নেতৃত্ব, শৃঙ্খলাবোধ, পারস্পরিক সহমর্মিতা ও সুস্থ জীবনযাপনের অভ্যাস গড়ে উঠবে।

প্রতিমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, নতুন এই কারিকুলাম সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য শিক্ষকদের মানসম্মত প্রশিক্ষণের ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রায় ৬৫ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বাস্তব চিত্র বিবেচনা করে এমন একটি পাঠ্যক্রম তৈরি করা হচ্ছে, যা কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ওপর বাড়তি কোনো মানসিক বা পড়াশোনার চাপ সৃষ্টি করবে না এবং অত্যন্ত সহজ ও কার্যকর উপায়ে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।

উক্ত কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন। এছাড়াও অন্যান্যের মধ্যে সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী এবং জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)-এর চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ ফখরুল মওলাসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদগণ উপস্থিত ছিলেন।

তাসনিম হোসেন