দক্ষ মানবসম্পদ ও টেকসই সমাজ গঠনে সংসদ সদস্যদের ভূমিকা অনস্বীকার্য: স্পিকার

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ১২ জুলাই ২০২৬, ০৯:০৪ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

একটি টেকসই, বৈষম্যহীন ও মানবসম্পদভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে সংসদ সদস্যদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। রোববার (১২ জুলাই) সংসদ ভবনের শপথ কক্ষে আয়োজিত ‘জনমিতিক লভ্যাংশ ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নে সংসদের ভূমিকা’ শীর্ষক এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের ‘স্ট্রেনদেনিং পার্লামেন্টস ক্যাপাসিটি ইন পপুলেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ইস্যুজ’ (এসপিসিপিডি) প্রকল্পের অধীনে এই অবহিতকরণ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে স্পিকার বলেন, জনসংখ্যাগত পরিবর্তন ও জনমিতিক লভ্যাংশকে (ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড) কাজে লাগাতে সংসদীয় বিতর্কে এসব বিষয়কে প্রাধান্য দিতে হবে। দেশের উন্নয়নকে আরও বেগবান করতে কার্যকর আইন প্রণয়ন ও বাস্তবমুখী নীতিনির্ধারণের কোনো বিকল্প নেই।

ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্য দেন সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনি।

বক্তব্যের শুরুতে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সময় পার করছে। বিশ্ব জনসংখ্যা দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য ‘তরুণদের আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করি, আজকের প্রত্যয়ে সুন্দর আগামী গড়ি’ স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, দেশের এই বিশাল তরুণ সমাজকে যদি সঠিক কারিগরি ও মানসম্মত শিক্ষার মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করা যায়, তবেই দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি ও সামাজিক কাঠামোতে এক বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে।

তিনি আরও জানান, জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের (ইউএনএফপিএ) কৌশলগত সহযোগিতায় সংসদ সদস্যদের ফোরাম (বিএপিপিডি) গঠন করা হয়েছে, যা জনসংখ্যা ও উন্নয়ন বিষয়ক আইন প্রণয়নে আইনপ্রণেতাদের হাতকে আরও শক্তিশালী করবে। বিশেষ করে বাল্যবিয়ে রোধ, সংশ্লিষ্ট আইনের কঠোর প্রয়োগ, কৈশোরকালীন প্রজনন স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং জনমিতিক লভ্যাংশ অর্জনের মতো বিষয়গুলো যদি সংসদীয় স্থায়ী কমিটির নিয়মিত কার্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়, তবে জাতীয় লক্ষ্যমাত্রা অর্জন অনেক সহজ হবে। স্পিকার আশা প্রকাশ করেন যে স্বাস্থ্য, জেন্ডার সমতা, যুব উন্নয়ন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলাসহ এসডিজি অর্জনে এসপিসিপিডি প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

চিহুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনি তার বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশের জনসংখ্যার একটি বড় অংশই এখন কর্মক্ষম ও তরুণ। তবে এই জনমিতিক লভ্যাংশ এমনি এমনি ধরা দেবে না; এটি মূলত পরিকল্পিত ও সঠিক বিনিয়োগের ওপর নির্ভর করে। তরুণদের জন্য যদি আধুনিক শিক্ষা, যুগের উপযোগী কারিগরি জ্ঞান এবং উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা না যায়, তবে এই বিশাল সম্ভাবনা উল্টো সামাজিক ও অর্থনৈতিক বড় ধরনের সংকটে রূপ নিতে পারে বলে তিনি সতর্ক করে দেন।

কর্মশালার একপর্যায়ে স্পিকারসহ উপস্থিত সকল অতিথি ও বক্তারা জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দাঁড়িয়ে নীরবতা পালন করেন। উক্ত অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সংসদ সদস্য, ইউএনএফপিএ বাংলাদেশের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ, সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের পরিচালক এবং সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

তাসনিম হোসেন