পানি কমেছে কিন্তু কষ্ট কমেনি - একামধু গ্রামের পাশে বিআইএস পরিবার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২ জুলাই ২০২৬, ১০:৪৭ পিএম

ছবি: প্রজন্ম ২৪

মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলায় বন্যার পানি কমতে শুরু করলেও একামধু গ্রামের বাসিন্দাদের দুর্ভোগ এখনো চরম আকার ধারণ করে আছে। খাবার ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকটে থাকা এই দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘বিআইএস’ পরিবার।

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি জানান, সাম্প্রতিক টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যার পানি রাজনগর উপজেলার ট্যাংরা ইউনিয়নের একামধু গ্রাম থেকে ধীরে ধীরে নামতে শুরু করেছে। তবে পানি কমলেও স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবনযাত্রা এখনো স্বাভাবিক হয়নি। দুর্গত এলাকায় দেখা দিয়েছে তীব্র খাদ্য ও সুপেয় পানির অভাব। এই কঠিন পরিস্থিতিতে বন্যাকবলিত অসহায় মানুষের কষ্ট লাঘবে এগিয়ে এসেছেন বিআইএস পরিবারের সদস্যরা।

সরেজমিনে একামধু গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, বন্যার পানি কিছুটা হ্রাস পেলেও এখনো অনেক ঘরবাড়ির ভেতরে হাঁটু পর্যন্ত পানি জমে রয়েছে। বসতভিটা জলমগ্ন থাকায় নারীরা ঘরের ভেতর রান্নাবান্না করার মতো শুকনো কোনো জায়গা খুঁজে পাচ্ছেন না। এছাড়া গ্রামের অধিকাংশ নলকূপ বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় দেখা দিয়েছে পানের অযোগ্য পানির তীব্র সংকট। এই প্রতিকূল পরিবেশে বিশেষ করে শিশু, নারী ও প্রবীণ ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

স্থানীয় ভুক্তভোগী বাসিন্দাদের অভিযোগ, সরকারি কিংবা বেসরকারি বড় কোনো ত্রাণসহায়তা এখনো তাদের গ্রামে এসে পৌঁছায়নি। দীর্ঘ ছয় দিন ধরে পানির মধ্যে বন্দি জীবনযাপন করলেও সিংহভাগ মানুষ এখনো কোনো ধরনের শুকনো খাবার বা সরকারি সাহায্য পাননি।

এমন মানবিক বিপর্যয়ের মুখে বিআইএস পরিবারের একদল তরুণ একামধু গ্রামে ছুটে যান। তারা নৌকায় করে ঘরে ঘরে গিয়ে পানিবন্দি ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মাঝে শুকনো খাবার, বোতলজাত বিশুদ্ধ পানীয় জল এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় জরুরি সামগ্রী বিতরণ করেন।

ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে অংশ নেওয়া বিআইএস পরিবারের এক সদস্য জানান, লোকালয় থেকে বন্যার পানি নেমে গেলেও মানুষের ভেতরের কষ্ট ও সংকট কিন্তু শেষ হয়ে যায়নি। ঘরবাড়ি পানিতে ডুবে থাকায় এই মুহূর্তে শিশু এবং অসুস্থ ব্যক্তিদের জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন বিশুদ্ধ পানি ও পুষ্টিকর খাবার। তারা তাদের নিজেদের সাধ্য ও সামর্থ্য অনুযায়ী এই অসহায় মানুষগুলোর পাশে দাঁড়ানোর সামান্য চেষ্টা করেছেন মাত্র।

বিআইএস পরিবারের কাছ থেকে জরুরি খাদ্য ও পানি নিতে আসা একামধু গ্রামের বাসিন্দারা আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, বন্যার পানি হয়তো দ্রুত চলে যাবে, কিন্তু এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে তাদের যে পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তা কাটিয়ে উঠতে দীর্ঘ সময় লাগবে। ঘরের ভেতরের আসবাবপত্র, খাদ্যশস্য ও কাঁচা ঘরবাড়ি সব নষ্ট হয়ে গেছে। তারা আরও জানান, জীবন বাঁচাতে এই মুহূর্তে তাদের জরুরি ভিত্তিতে পর্যাপ্ত শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি এবং জীবনরক্ষাকারী ওষুধের প্রয়োজন।

তাসনিম হোসেন