হাওর এলাকায় ডাকাতি প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও বেশি কঠোর ও তৎপর হওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম। রোববার (১২ জুলাই) দুপুরে কিশোরগঞ্জ জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই তাগিদ দেন।
উক্ত সভায় বক্তব্য রাখার সময় প্রতিমন্ত্রী বলেন, "আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে ইতিমধ্যেই ডাকাতদের একটি তালিকা রয়েছে। তাদের পূর্ববর্তী অপরাধের রেকর্ড বা ইতিহাস পর্যালোচনা করে যদি নিয়মিত বিশেষ অভিযান চালানো হয়, তবে তারা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হবে। বর্তমান সরকার কোনো ধরনের অন্যায়ের সঙ্গে বিন্দুমাত্র আপস করবে না।" একই সঙ্গে মাদক চোরাচালান ও ব্যবসা বন্ধের বিষয়ে তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীদের কোনো অবস্থাতেই কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। শুধু মাদক হাতেনাতে উদ্ধারের অপেক্ষায় বসে না থেকে, প্রচলিত আইনের অন্যান্য ধারায়ও তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তিনি প্রশাসনকে নির্দেশ দেন।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি পুনর্ব্যক্ত করে শরীফুল আলম বলেন, "সরকারি কর্মকর্তা থেকে শুরু করে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি—সবাইকে আর্থিক ও নৈতিকভাবে পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে। রাষ্ট্রীয় বরাদ্দের টাকায় কোনো ধরনের অনিয়ম বা লুটপাট সহ্য করা হবে না; অপরাধী যেই হোক না কেন, সে নিজের দলের লোক হলেও রেহাই পাবে না।"
বিভিন্ন উন্নয়নমূলক ও ঠিকাদারি কাজের গুণগত মান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে পাট প্রতিমন্ত্রী বলেন, "মূল ঠিকাদারের কাছ থেকে কাজ হাতবদল বা সাব-কন্ট্রাক্টে চলে গেলে সচরাচর কাজের মান অত্যন্ত খারাপ হয়। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীদের এই বিষয়ে মাঠ পর্যায়ে কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে কোনো প্রকল্পের কাজই সাব-কন্ট্রাক্টে দেওয়া না যায়।"
কিশোরগঞ্জ জেলার চলমান বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী জানান, ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানের আধুনিকায়ন ও সার্বিক উন্নয়নের জন্য প্রায় ১৯ কোটি টাকার একটি বিশেষ প্রকল্প তৈরি করা হয়েছে, যা আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে চূড়ান্ত অনুমোদন লাভ করবে। এর পাশাপাশি, কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য নির্ধারিত ১০৩ একর জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত দীর্ঘদিন ধরে চলা আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় সফলভাবে নিরসন করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিনের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই গুরুত্বপূর্ণ সভায় স্থানীয় সংসদ সদস্য, পুলিশ সুপার, বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।