৫৪ বছরের হিসাব দিন নাহলে আন্দোলন, ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২ জুলাই ২০২৬, ১০:৫৯ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

ঐতিহাসিক হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের পবিত্রতা রক্ষা এবং বিগত ৫৪ বছরের দানকৃত সমস্ত অর্থের স্বচ্ছ হিসাব জনসম্মুখে প্রকাশের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে সিলেট। রোববার (১২ জুলাই) মাজারের সামনে আয়োজিত এক বিশাল মানববন্ধনে অংশ নিয়ে আন্দোলনকারীরা হিসাব দিতে ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম ঘোষণা করেছেন।

মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি জানান, রোববারের এই মানববন্ধনে অংশ নেওয়া সাধারণ মানুষ ও ভক্তরা সাফ জানিয়েছেন, মাজারের আয়ের হিসাব চাওয়া কোনো অনুরোধ নয়, বরং এটি এখন জনগণের ন্যায্য দাবি। আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে যদি সন্তোষজনক হিসাব দেওয়া না হয়, তবে আরও কঠোর কর্মসূচি নিয়ে মাঠ গরম করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।

বিক্ষোভকারীদের ভাষ্য, এই পবিত্র মাজার কেবল সিলেটের মানুষের নয়, বরং পুরো দেশের মানুষের এক পরম আধ্যাত্মিক কেন্দ্র। কিন্তু বছরের পর বছর ধরে এখানে ভক্তদের দেওয়া কোটি কোটি টাকার আয় ও ব্যয়ের কোনো স্বচ্ছতা বা জবাবদিহিতা নেই। সম্প্রতি মাজারের দানবাক্স ও বড় ডেগের টাকা জনসাধারণের সামনে প্রকাশ্যে গণনার উদ্যোগকে তারা সাধুবাদ জানালেও, তাদের মূল দাবি হলো—বিগত ৫৪ বছরে এখানে যত টাকা জমা হয়েছে, তার একটি পূর্ণাঙ্গ অডিট রিপোর্ট অবিলম্বে জাতির সামনে উন্মুক্ত করতে হবে।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, মাজারের পবিত্রতা রক্ষা করা এবং এর নামে চলা যেকোনো ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতি প্রতিরোধ করা এখন সময়ের দাবি। প্রতি বছর মাজারের দানের টাকা ঠিক কোথায়, কীভাবে এবং কোন খাতে ব্যয় করা হচ্ছে, তার একটি আনুষ্ঠানিক বার্ষিক প্রতিবেদন বা স্টেটমেন্ট প্রকাশ করতে হবে।

এই দাবিতে বিক্ষোভকারীরা মাজার ব্যবস্থাপনা কমিটি এবং স্থানীয় জেলা প্রশাসনের কাছে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে লিখিত হিসাব দাবি করেছেন। এই সময়সীমার মধ্যে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে রাজপথে আরও বৃহত্তর আন্দোলন ও মানববন্ধনের মাধ্যমে তীব্র প্রতিবাদ গড়ে তোলা হবে বলে তারা স্পষ্ট জানিয়ে দেন।

উল্লেখ্য, সস্প্রতি গত ২২ জুন এবং ১১ জুলাই মাজারের দানবাক্সগুলো সর্বসাধারণের সামনে প্রকাশ্যে গণনা করা হয়েছিল। সেখান থেকে যথাক্রমে ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা এবং ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা উদ্ধার করা হয়। তবে টাকা গণনার সময় বাক্সের ভেতর থেকে বেশ কিছু চিরকুট পাওয়া যায়, যেখানে মাজারের বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ অনিয়মের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ লেখা ছিল। এই চিরকুটগুলো পাওয়ার পর থেকেই মাজারের অর্থ ব্যবস্থাপনা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে নতুন করে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।

১৩০৩ সালে প্রতিষ্ঠিত ও ঐতিহ্যবাহী হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর এই পুণ্যভূমি দেশ-বিদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে অত্যন্ত শ্রদ্ধার একটি স্থান। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এখানে মানত করেন এবং বিপুল অর্থ দান করেন। ফলে এই বিপুল পরিমাণ দানের অর্থের সঠিক ও সৎ ব্যবহার নিশ্চিত করার বিষয়ে জনমনে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত প্রশ্ন এখন আন্দোলনে রূপ নিয়েছে।

তাসনিম হোসেন