ইতালির রোমে বাংলাদেশি এক পরিবারের তিন সদস্যকে নৃশংসভাবে হত্যার পর ঘাতক আলামত গোপন করে পরিবারের বড় ছেলেকে হত্যার জন্য ওত পেতে ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে ওই ছেলে পালিয়ে প্রাণে বেঁচে যায় এবং পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পুলিশের কাছে দেওয়া জবানবন্দিতে পুরো ঘটনার চাঞ্চল্যকর বিবরণ দেয়।
রোমের ভিয়া মন্টিগ্লিও এলাকার একটি ভবনে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। একমাত্র জীবিত সদস্য আমির উদ্দিন অয়ন (২০) জানান, তিনি কাজ শেষে বাসায় ফিরে প্রথমে কিছুই অস্বাভাবিক মনে করেননি। ঘরটি গোছানো অবস্থায় ছিল। কিন্তু পরে মায়ের কক্ষের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় খাটের নিচ থেকে ছোট বোনের শরীরের অংশ দেখতে পান।
এতে তিনি হতবিহ্বল হয়ে পুরো বিষয়টি বুঝতে পারেন। ঠিক সেই সময় আগে থেকেই লুকিয়ে থাকা ঘাতক চাপাতি নিয়ে তার ওপর হামলা চালায়। জীবন বাঁচাতে তিনি তীব্র ধস্তাধস্তির পর কোনোভাবে ঘর থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন।
গুরুতর আহত অবস্থায় ভবনের সামনে থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। তার মাথা ও পায়ে গভীর ক্ষত ছিল। প্রাথমিক চিকিৎসার সময় তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, ঘাতক তার পুরো পরিবারকে হত্যা করেছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, হামলার পর ঘাতক কয়েক ঘণ্টা ধরে বাসার ভেতরের রক্তের দাগ মুছে ফেলে এবং আলামত পরিষ্কার করার চেষ্টা করে। এরপর নিহত বাবার মরদেহ সোফা ও দেয়ালের মাঝখানে এবং মা ও ছোট বোনের মরদেহ খাটের নিচে লুকিয়ে রাখা হয়। পরে বড় ছেলেকে হত্যার উদ্দেশ্যে সেখানে অপেক্ষা করছিল ঘাতক।
হত্যাকাণ্ডের সম্ভাব্য কারণ সম্পর্কে আমির পুলিশকে জানান, অভিযুক্ত শাহাদাত হোসেন (৪৩) তার বাবার সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধে জড়িয়েছিল। এমনকি পরিবার থেকে তাকে দূরে রাখার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছিল বলে জানা যায়। এছাড়া গত সপ্তাহে আমিরের সঙ্গে তার তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়েছিল বলেও তিনি জানান।
এদিকে স্থানীয় বাংলাদেশি প্রবাসীদের মধ্যে নিহতদের পরিবারের সঙ্গে অভিযুক্তের ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও বিরোধ নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। তবে পুলিশ জানিয়েছে, পুরো বিষয়টি তদন্তাধীন এবং এখনই চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।