বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে পর্তুগাল ছিটকে যাওয়ার পর বিশ্বজয়ের স্বপ্ন অধরা থেকে গেলেও কোনো আক্ষেপ নেই ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর। পাঁচবারের ব্যালন ডি'অর জয়ী এই মহাতারকার মতে, ২০১৬ সালের ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ই তার কাছে বিশ্বকাপের সমান।
স্পেনের বিরুদ্ধে ম্যাচটিই ছিল রোনালদোর ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ। এই হারের মধ্য দিয়ে তার সোনালী ট্রফি ছোঁয়ার স্বপ্ন শেষ হয়ে গেলেও ম্যাচ শেষে মিক্সড জোনে গণমাধ্যমের সামনে বেশ শক্ত ও ইতিবাচক মেজাজে হাজির হন সিআরসেভেন। নিজের দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের অর্জন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, বিশ্বকাপ না পেলেও তার প্রাপ্তির খাতা শূন্য নয়।

সাংবাদিকদের রোনালদো বলেন, “পর্তুগালের হয়ে আমার সবচেয়ে বড় অর্জন হলো ২০১৬ সালের ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ জয়। ওই ট্রফিটি আমার কাছে বিশ্বকাপের মতোই সমান গুরুত্বপূর্ণ ও মর্যাদার।” ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ থেকে এমন বিদায়ের পরও নিজের ভেতর কোনো অপরাধবোধ বা আফসোস কাজ করছে না বলে জানান ৩৯ বছর বয়সী এই ফুটবলার। নিজের পারফরম্যান্সের মূল্যায়ন করতে গিয়ে তিনি আরও বলেন, “আগামীকাল আমি একদম পরিষ্কার ও শান্ত বিবেক নিয়ে ঘুম থেকে উঠব। কারণ আমি দেশের জন্য মাঠে নিজের সর্বস্ব দিয়ে খেলেছি।”
পর্তুগাল ফুটবলের ইতিহাস বদলে দেওয়ার কৃতিত্ব যে তার, সেটিও মনে করিয়ে দিতে ভুলেননি এই কিংবদন্তি। তিনি বলেন, “আমার অভিষেকের আগে পর্তুগাল আন্তর্জাতিক ফুটবলে কোনো বড় শিরোপাই জেতেনি। কিন্তু আমি তাদের তিনটি ট্রফি উপহার দিয়েছি—২০১৬ সালের ইউরো এবং ২০১৯ ও ২০২৫ সালের নেশনস লিগ।”
তবে বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর ফুটবল ভক্তদের মনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন জেগেছে তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ভবিষ্যৎ নিয়ে। তিনি কি আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানাবেন, নাকি খেলা চালিয়ে যাবেন? এই বিষয়ে সরাসরি কোনো ঘোষণা না দিয়ে কিছুটা ধোঁয়াশা রেখে রোনালদো বলেন, “আমি আবেগের বশবর্তী হয়ে কখনো কোনো সিদ্ধান্ত নিই না। আমি খেলা চালিয়ে যাব কি না, তা এই মুহূর্তে মোটেও গুরুত্বপূর্ণ কোনো বিষয় নয়।” এখন দেখার বিষয়, বিশ্বকাপ পর্ব চুকে যাওয়ার পর সিআরসেভেন তার ক্যারিয়ার নিয়ে পরবর্তী কী সিদ্ধান্ত নেন।