বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর লড়াইয়ে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে পর্তুগালের বিদায়ের পর দলটির কোচের দায়িত্ব ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন রবার্তো মার্টিনেজ। স্প্যানিশ এই কোচ এই পরাজয়কে দলের একটা বড় অধ্যায়ের সমাপ্তি বলে উল্লেখ করেছেন।
ম্যাচ শেষ হওয়ার পরপরই রবার্তো মার্টিনেজ জানান, সোমবারই পর্তুগাল ফুটবল দলের সঙ্গে তার চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়েছে। এখন নতুন কোচ বেছে নেওয়ার পুরো দায়িত্ব পর্তুগাল ফুটবল ফেডারেশনের (এফপিএফ)।
ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে নিজের পদত্যাগের বিষয়ে মার্টিনেজ বলেন, “আমি পর্তুগাল জাতীয় দলের দায়িত্ব নিয়ে এসেছিলাম বিশ্বকাপ জিততে। যেহেতু আমরা বিশ্বকাপ জিততে পারিনি, তাই এখানে আর আমার কোচিং ক্যারিয়ার চালিয়ে যাওয়ার কোনো মানে নেই বলেই আমি মনে করি।” তিনি আরও যোগ করেন, “বোর্ড ও সভাপতির সামনে এখন নতুন কোচ বেছে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। আমার চুক্তি আজই শেষ হয়েছে, এর বেশি আসলে এই মুহূর্তে বলার কিছু নেই।”
মার্টিনেজ পরিষ্কার করেন যে, বিশ্বকাপ টুর্নামেন্ট শুরুর আগে চাকরি ছাড়ার বিষয়ে কোনো পূর্বনির্ধারিত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ছিল না। তবে স্পেনের বিপক্ষে এই হারই যে পর্তুগালের ডাগআউটে তার শেষ ম্যাচ ছিল, তা তিনি নিশ্চিত করেছেন। বিদায়লগ্নে আবেগপ্রবণ মার্টিনেজ বলেন, “হ্যাঁ, এটাই জাতীয় দলের হয়ে আমার শেষ ম্যাচ ছিল। তবে আমি অনেক গর্বিত। পর্তুগালের মানুষ আমাকে একজন পর্তুগিজের মতোই আপন করে নিয়েছিল, অনেক উষ্ণতা দিয়েছিল। এটা আমার জন্য যেমন আনন্দের ও গর্বের ছিল, ঠিক তেমনি বড় দায়িত্বেরও বিষয় ছিল।”
পর্তুগালের এই টুর্নামেন্ট থেকে বিদায়ের সঙ্গে সঙ্গে দলটির ৪১ বছর বয়সী কিংবদন্তি মহাতারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারেরও ইতি ঘটতে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রোনালদোর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত কিছু না বললেও নিজের বিদায়ী অধিনায়কের প্রশংসা করতে ভুলেননি এই বিদায়ী কোচ।
মার্টিনেজ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “আমি ক্রিস্টিয়ানোকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাতে চাই, কারণ সে একজন অনুকরণীয় অধিনায়ক ছিল। শুধু গোল করার ক্ষেত্রেই নয়, অ্যাসিস্টের পরিসংখ্যানের দিক থেকেও সে কতটা অনন্য, তা সবার জানা।”