চলতি টুর্নামেন্টে লাল কার্ডের নিয়মে বড়সড় পরিবর্তন এনেও শেষ রক্ষা হলো না স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রের। প্রথমার্ধে লড়াইয়ের আভাস দিলেও দ্বিতীয়ার্ধে বেলজিয়ামের কাছে ৪-১ গোলের বড় ব্যবধানে বিধ্বস্ত হয়ে ঘরের মাঠ থেকেই বিদায় নিতে হলো মার্কিনিদের। আর এই দাপুটে জয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে বেলজিয়াম।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকা বেলজিয়াম লিড পেতে বেশি সময় নেয়নি। ম্যাচের মাত্র ৯ মিনিটেই চার্লস ডি কেটেলারা বক্সের ভেতর দারুণ এক শটে বল জালে জড়িয়ে বেলজিয়ামকে ১-০ গোলে এগিয়ে নেন।
শুরুতেই গোল হজম করে পিছিয়ে পড়ার পর গা ঝাড়া দিয়ে ওঠে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র। ম্যাচের ৩১ মিনিটে তারা সমতায় ফিরতে সক্ষম হয়। দলের পক্ষে দুর্দান্ত এক ফ্রি–কিক থেকে গোল করে গ্যালারিতে উল্লাসের জোয়ার আনেন মার্কিন তারকা মালিক টিলম্যান। তবে স্বাগতিকদের এই সমতার আনন্দ স্থায়ী হয়েছিল মাত্র দুই মিনিট।
ম্যাচের ৩৩ মিনিটে আবারও বেলজিয়ামকে এগিয়ে নেন সেই ডি কেটেলারা। যুক্তরাষ্ট্রের ডিফেন্ডারদের বোকা বানিয়ে ম্যাচে নিজের ও দলের দ্বিতীয় গোলটি করেন এই ফরোয়ার্ড। ফলে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় বেলজিয়াম।
বিরতি থেকে ফিরে এসে ব্যবধান বাড়াতে মরিয়া হয়ে ওঠে বেলজিয়ামের ‘রেড ডেভিল’রা। ম্যাচের ৫৭ মিনিটে যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষণভাগ ও গোলরক্ষক ম্যাট ফ্রিজের একটি মারাত্মক ভুলের সুযোগ নিয়ে দলের হয়ে তৃতীয় গোলটি করেন হান্স ফানাকান। ৩-১ গোলে পিছিয়ে পড়ে ম্যাচ থেকে কার্যত ছিটকে যায় স্বাগতিকেরা। এবারের আসরে লাল কার্ডের নিয়মে বিশেষ পরিবর্তন এনে দলের ভারসাম্য ধরে রাখার চেষ্টা করা হলেও, মাঠের কৌশলে বেলজিয়ামের চেয়ে অনেকটাই পিছিয়ে ছিল মার্কিনরা।
এরপর ম্যাচের বাকিটা সময় বেলজিয়ামের রক্ষণভাগ ভাঙতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয় মার্কিন ফরোয়ার্ডরা। উল্টো ম্যাচের নির্ধারিত সময় শেষে অতিরিক্ত যোগ করা সময়ের (ইঞ্জুরি টাইম) তিন মিনিটে যুক্তরাষ্ট্রের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠোকেন অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার রোমেলু লুকাকু। বেলজিয়ামের হয়ে চতুর্থ গোলটি করে দলের ৪-১ ব্যবধানের বিশাল জয় নিশ্চিত করেন তিনি। এই বড় জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়েই কোয়ার্টার ফাইনালের মঞ্চে মাঠে নামবে বেলজিয়াম।