তিস্তা বাঁধ: ১১০ কিলোমিটার নদীশাসন ও ২২৪ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণের প্রস্তাব

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৭ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩১ পিএম

তিস্তা নদী ঘিরে টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে মহাপরিকল্পনায় ১১০ কিলোমিটার নদীশাসন, ১১০ কিলোমিটার ড্রেজিং, ২২৪ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণসহ বড় ধরনের অবকাঠামো উন্নয়নের প্রস্তাব করা হয়েছে। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে এ তথ্য জানিয়েছেন পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।

জাতীয় সংসদের অধিবেশনে রংপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. রায়হান সিরাজীর এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে এসব তথ্য জানান পানিসম্পদমন্ত্রী। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম।

মন্ত্রী বলেন, উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবন ও জীবিকার সঙ্গে তিস্তা নদী গভীরভাবে জড়িত। তবে উজানে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ ও অন্যান্য সীমাবদ্ধতার কারণে শুষ্ক মৌসুমে নদীতে পানির প্রবাহ কমে যায়। এতে তিস্তা সেচ প্রকল্পসহ কৃষিকাজ ব্যাহত হয়। অন্যদিকে বর্ষাকালে অতিবৃষ্টি ও উজানের ঢলে আকস্মিক বন্যা এবং নদীভাঙনের ঝুঁকি তৈরি হয়।

তিনি জানান, তিস্তা অববাহিকার পাঁচ জেলা—রংপুর, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা ও লালমনিরহাটে নদীভাঙন ঠেকাতে ২০২৪-২৫ ও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ২২২ কোটি ২৩ লাখ টাকা ব্যয়ে ৪২ দশমিক ১৭ কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণকাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।

পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, তিস্তা নদীকে কেন্দ্র করে টেকসই ও সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনার একটি সমীক্ষা শেষ হয়েছে। ওই সমীক্ষা প্রতিবেদনে মহাপরিকল্পনার আওতায় ১১০ কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণ, ১১০ কিলোমিটার নদী খনন, ২২৪ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও বাঁধের ওপর সড়ক নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

এ ছাড়া ৬৭টি গ্রোয়েন ও স্পার নির্মাণ এবং সংস্কার, পাশাপাশি ১৭০ বর্গকিলোমিটার ভূমি পুনরুদ্ধার ও উন্নয়নের পরিকল্পনাও রাখা হয়েছে।

শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি জানান, প্রকল্পটির কারিগরি ও আর্থিক বিষয়গুলো বর্তমানে বিভিন্ন পর্যায়ে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। এটি বাস্তবায়িত হলে শুষ্ক মৌসুমে পানি সংরক্ষণ ও সেচ সুবিধা বাড়বে, পাশাপাশি কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও ফসলের বৈচিত্র্য আনা সম্ভব হবে।

তিনি আরও বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে নদীতীরবর্তী এলাকায় সড়ক, সেতু ও বাঁধ নির্মাণের সুযোগ তৈরি হবে। এর ফলে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দারিদ্র্য কমানো, নৌযোগাযোগ বৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে বলে সমীক্ষা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

তাসনিম হোসেন