ঢাবির প্রায় দুই ডজন শিক্ষার্থীবান্ধব প্রকল্প আটকে আছে: ডাকসু ভিপি

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৭ জুলাই ২০২৬, ১০:০০ পিএম

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে অনুমোদন পাওয়া প্রায় দুই ডজন উন্নয়ন প্রকল্প প্রশাসনিক অসহযোগিতা ও বিভিন্ন মহলের বাধার কারণে বাস্তবায়ন হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন ডাকসুর সহসভাপতি সাদিক কায়েম।

ডাকসুর প্রচেষ্টায় শিক্ষার্থীদের সুবিধা বাড়াতে অনুমোদন পাওয়া বিভিন্ন প্রকল্প উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আটকে রাখা হয়েছে বলে দাবি করেছেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম। তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অসহযোগিতা এবং সরকারের বিভিন্ন মহলের বাধার কারণে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না।

এক বিবৃতিতে তিনি জানান, ডাকসু ও তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের সমন্বয়ে হলগুলোতে কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন, শিক্ষার্থীদের তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ, ইন্টার্নশিপের সুযোগ সৃষ্টি এবং ইনোভেশন হাব প্রতিষ্ঠাসহ ছয়টি বড় প্রকল্প আটকে রয়েছে।

এ ছাড়া স্থানীয় সরকার বিভাগ ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের কারিগরি সহায়তায় বাস্তবায়নের জন্য নির্ধারিত কয়েকটি প্রকল্পও স্থগিত রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এসব প্রকল্পের মধ্যে স্যার এ এফ রহমান হলের প্রবেশদ্বার নির্মাণ, ডাকসু ক্যাফেটেরিয়ার সংস্কার, ক্যাম্পাসের পুকুরের পাড় বাঁধাই, হাঁটার পথ নির্মাণ, আলোকসজ্জা ও সৌন্দর্যবর্ধন উল্লেখযোগ্য।

সাদিক কায়েম আরও বলেন, কাজী মোতাহার হোসেন ভবন এলাকায় ক্যান্টিন স্থাপন, ক্যাম্পাসে বড় আকারের টেকসই ময়লার পাত্র স্থাপন এবং প্রায় দুই কোটি টাকার ক্যান্টিন প্রকল্প মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ও সুপারিশ পাওয়ার পরও বাস্তবায়ন হয়নি।

তার দাবি, ক্যাম্পাসে নিবন্ধিত রিকশা ব্যবস্থা চালু, দায়িত্ব পালনের জন্য পুলিশ কর্মকর্তা নিয়োগ, পুরোনো যানবাহন নিলামে বিক্রি করে নতুন দুটি মিনিবাস ও দুটি মাইক্রোবাস কেনার উদ্যোগও দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে আছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের অর্থায়নে দুই কোটি টাকার মাঠ সংস্কার প্রকল্প এবং মাঠের ডিজিটাল জরিপের কাজও বিভিন্ন অজুহাতে বন্ধ রয়েছে। পাশাপাশি ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের সঙ্গে ভর্তুকি মূল্যে ক্যান্টিনে খাদ্য সরবরাহের উদ্যোগও নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে থেমে গেছে।

ডাকসু ভিপির অভিযোগ, পাবলিক ওয়াশরুম নির্মাণ, কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার থেকে কলাভবন পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার, আবাসিক হলগুলোতে বাগান স্থাপন, প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সুবিধা, আসবাবপত্র সরবরাহ, হল মসজিদ উন্নয়ন এবং কেন্দ্রীয় মসজিদে লাইব্রেরি ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা স্থাপনের মতো প্রকল্পও বাস্তবায়নের অপেক্ষায় রয়েছে।

তিনি আরও জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট উন্নয়ন, ‘অল ইন ওয়ান ডিইউ অ্যাপ’ তৈরি, কার্জন হল এলাকায় নতুন ক্যান্টিন চালু এবং সেখানে প্রক্টরিয়াল অফিস স্থাপনের উদ্যোগও বর্তমানে স্থবির হয়ে আছে।

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দের প্রসঙ্গ তুলে সাদিক কায়েম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হলগুলোর মসজিদে মক্তব প্রকল্প ও সংস্কারের জন্য প্রতি হলে এক লাখ টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় মসজিদে একটি ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হলেও পরবর্তী সময়ে এসব কার্যক্রম এগোয়নি।

তিনি বলেন, নতুন সরকার আসার পর এসব প্রকল্প বন্ধ বা স্থগিত করার কারণ সম্পর্কে কোনো যৌক্তিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। শিক্ষার্থীবান্ধব উদ্যোগগুলো যদি রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বন্ধ করা হয়, তাহলে তা নতুন ধরনের নেতিবাচক সংস্কৃতির জন্ম দেবে।

সাদিক কায়েম আরও বলেন, প্রশাসনের অসহযোগিতা সত্ত্বেও শিক্ষার্থীদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ডাকসু কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। বাজেট সংকট থাকলেও দায়িত্বকালীন সময়ের মধ্যে এসব অঙ্গীকার পূরণের চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

 

তাসনিম হোসেন