ঢাবির ২ ডজন উন্নয়ন প্রকল্প আটকে আছে, প্রশাসনকে দায়ী করলেন ভিপি সাদিক কায়েম

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৮ জুলাই ২০২৬, ০৮:৪৪ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থীদের কল্যাণে অনুমোদিত হওয়া প্রায় দুই ডজন উন্নয়ন ও সেবামূলক প্রকল্প এখনো বাস্তবায়ন করা হয়নি বলে অভিযোগ তুলেছেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম। এই স্থবিরতার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের চরম অসহযোগিতা এবং সরকারের বিভিন্ন মহলের বাধাকে দায়ী করেছেন তিনি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহসভাপতি (ভিপি) সাদিক কায়েম এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। মঙ্গলবার দেওয়া ওই বিবৃতিতে তিনি দাবি করেন, ডাকসুর আন্তরিক উদ্যোগে এবং সরকারের বিভিন্ন সেবামূলক সংস্থার প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় একাধিক শিক্ষার্থীবান্ধব প্রকল্প অনুমোদন পেলেও সেগুলোর বেশিরভাগই আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় দীর্ঘদিন ধরে বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি।

সাদিক কায়েমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের আধুনিক ও প্রযুক্তিমনস্ক করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে ডাকসু এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের যৌথ সমন্বয়ে বেশ কিছু বড় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। যার মধ্যে অন্যতম ছিল— বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতে আধুনিক কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন, আইটি প্রশিক্ষণ কর্মশালা, শিক্ষার্থীদের জন্য ইন্টার্নশিপের সুযোগ সৃষ্টি এবং ক্যাম্পাসে ইনোভেশন হাব প্রতিষ্ঠা। তবে অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে এই সংক্রান্ত ছয়টি বড় প্রকল্প এখনো পুরোপুরি হিমাগারে রয়েছে।

প্রকল্পের স্থবিরতা কেবল আইসিটি বিভাগেই সীমাবদ্ধ নয়। স্থানীয় সরকার বিভাগ ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) কারিগরি সহায়তায় বাস্তবায়নের জন্য নির্ধারিত আরও পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প আটকে আছে বলে ভিপি অভিযোগ করেন। থমকে থাকা এসব প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে— স্যার এ. এফ. রহমান হলের মূল প্রবেশদ্বার নির্মাণ, ঐতিহাসিক ডাকসু ক্যাফেটেরিয়ার আধুনিক সংস্কার, ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে থাকা পুকুরের পাড় বাঁধাই, চমৎকার ওয়াকওয়ে ও লাইটিং নির্মাণ এবং সার্বিক সৌন্দর্যবর্ধন কাজ।

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, বিজ্ঞান অনুষদ সংলগ্ন কাজী মোতাহার হোসেন ভবন এলাকায় একটি নতুন ক্যান্টিন স্থাপন, ক্যাম্পাসের বিভিন্ন পয়েন্টে বড় আকারের ডাস্টবিন বসানো এবং শিক্ষার্থীদের জন্য প্রায় দুই কোটি টাকার একটি বৃহৎ ক্যান্টিন প্রকল্প সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদন ও সুপারিশ পাওয়ার পরও আলোর মুখ দেখেনি।

ডাকসু ভিপি আরও কিছু স্থবির হয়ে থাকা জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের খতিয়ান তুলে ধরেন। তিনি জানান, ক্যাম্পাসে সুশৃঙ্খল নিবন্ধিত রিকশা ব্যবস্থা চালু, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা জোরদারে পুলিশ কর্মকর্তা নিয়োগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরোনো ও অকেজো যানবাহন নিলামে বিক্রি করে প্রাপ্ত অর্থ দিয়ে নতুন দুটি মিনিবাস ও দুটি মাইক্রোবাস কেনা, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অর্থায়নে কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ সংস্কার এবং ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) মাধ্যমে ভর্তুকি মূল্যে হল ও ক্যান্টিনগুলোতে খাদ্যসামগ্রী সরবরাহের উদ্যোগগুলো বর্তমানে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে আছে।

শিক্ষার্থীদের নিত্যদিনের ভোগান্তির কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ক্যাম্পাসে আধুনিক পাবলিক ওয়াশরুম নির্মাণ, কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার থেকে কলাভবন পর্যন্ত ভাঙাচোরা সড়ক সংস্কার, আবাসিক হলগুলোতে দৃষ্টিনন্দন বাগান স্থাপন, শারীরিক প্রতিবন্ধী (বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন) শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতকরণ, হলের আসবাবপত্র সরবরাহ, কেন্দ্রীয় ও হল মসজিদের উন্নয়ন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ওয়েবসাইট ও আধুনিক 'অল ইন ওয়ান ডিইউ অ্যাপ' তৈরি, কার্জন হল এলাকায় নতুন ক্যান্টিন ও প্রক্টরিয়াল অফিস স্থাপন এবং ধর্ম মন্ত্রণালয়ের আওতায় হলভিত্তিক মক্তব প্রকল্পসহ আরও বেশ কয়েকটি দরকারি উদ্যোগ ফাইলবন্দি হয়ে আছে।

ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম প্রশ্ন তোলেন, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর শিক্ষার্থীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট এই প্রকল্পগুলো কেন বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না, সে বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনো যৌক্তিক ব্যাখ্যা মেলেনি। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে অনুমোদিত এসব শিক্ষার্থীবান্ধব প্রকল্প যদি কেবল রাজনৈতিক বিবেচনা বা প্রতিহিংসার কারণে স্থগিত রাখা হয়ে থাকে, তবে তা সাধারণ শিক্ষার্থীদের স্বার্থের পরিপন্থী এবং কোনোভাবেই কাম্য নয়।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে এত প্রতিবন্ধকতা ও অসহযোগিতা সত্ত্বেও ডাকসু দমে যায়নি উল্লেখ করে ভিপি বলেন, “আমরা শিক্ষার্থীদের দেওয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে আমাদের অব্যাহত প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। বর্তমানের চরম বাজেট ঘাটতি কিংবা প্রশাসনিক সংকট উপেক্ষা করে হলেও আমরা আমাদের দায়িত্বকালীন সময়ের মধ্যেই সব অঙ্গীকার পূরণ করে যাব এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য একটি আধুনিক ও সুন্দর ক্যাম্পাস উপহার দিয়ে যাব ইনশাল্লাহ।”

তাসনিম হোসেন