শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখাকে কেন্দ্র করে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র বাগবিতণ্ডা ও মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এতে মাথায় আঘাত পেয়ে এক কর্মী হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও দলীয় নেতাদের হস্তক্ষেপে প্রক্টর অফিসে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণে বিশ্বকাপ ফুটবলের উন্মাদনার মধ্যেই অনাকাঙ্ক্ষিত এক সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে শাবিপ্রবি ছাত্রদলের দুটি পক্ষ। প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে বড় পর্দায় বা উৎসবমুখর পরিবেশে বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখছিলেন সাধারণ শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা। খেলা চলাকালীন কোনো একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের সহ-দপ্তর সম্পাদক তারেকের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং (আইপিই) বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী নাফিসের কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে সেখানে উপস্থিত অন্যান্যদের হস্তক্ষেপে বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে মীমাংসা করে দেওয়া হয় এবং পরিস্থিতি শান্ত হয়।
তবে মুক্তমঞ্চের সেই প্রাথমিক উত্তেজনা প্রশমিত হলেও এর রেশ থেকে যায়। কিছুক্ষণ পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক (মেইন গেট) এলাকায় উভয় পক্ষ আবারও মুখোমুখি হয় এবং তাদের মধ্যে নতুন করে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। এ সময় নাফিসের পক্ষ নিয়ে তার বন্ধু এবং শাবিপ্রবি ছাত্রদলের সহ-অর্থ সম্পাদক কাফি কাউসার তার দলবলসহ ঘটনাস্থলে এসে উপস্থিত হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সরাসরি হাতাহাতি ও মারামারির ঘটনা ঘটে।
এই আকস্মিক সংঘর্ষে পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদলের সক্রিয় কর্মী আশরাফুল গুরুতরভাবে আহত হন। মারামারির সময় তার মাথায় আঘাত লাগে। আহত অবস্থায় তাকে দ্রুত উদ্ধার করে সিলেটের মাউন্ট অ্যাডোরা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়েছে।
ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকে এমন সংঘর্ষের খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নেয়। ঘটনার পরপরই বিবাদমান উভয় পক্ষের নেতাকর্মীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসে ডেকে নিয়ে আসা হয়। পরিস্থিতি শান্ত করতে সেখানে উপস্থিত হন শাবিপ্রবি শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাঈম সরকারসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের সিনিয়র নেতাকর্মীরা। দীর্ঘ সময় আলোচনার পর দলীয় নেতাদের উপস্থিতিতে এবং মধ্যস্থতায় উভয় পক্ষের মধ্যে সৃষ্ট এই ভুল বোঝাবুঝি ও দ্বন্দ্বের মীমাংসা করা হয়।
পুরো ঘটনাটি সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মুখলেসুর রহমান গণমাধ্যমকে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, "মূলত ছাত্রদলের নিজেদের অভ্যন্তরীণ একটি ঝামেলাকে কেন্দ্র করেই এই হাতাহাতির ঘটনাটি ঘটেছে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় যারা আহত হয়েছেন, প্রশাসন থেকে তাদের যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে। আর বিষয়টি যেহেতু পুরোপুরি ছাত্রদলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল, তাই তাদের নিজস্ব নেতাকর্মীদের মাধ্যমেই প্রক্টর অফিসে বসে এটি মীমাংসা করা হয়েছে।"