বিশ্বকাপ ম্যাচে ‘আইশোস্পিড’ বর্ণবাদের শিকার, ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে ফিফা

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৮ জুলাই ২০২৬, ০৯:১৩ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

চলমান ২০২৬ বিশ্বকাপে গ্যালারিতে থাকা এক দর্শকের কাছ থেকে জনপ্রিয় মার্কিন ইউটিউবার ‘আইশোস্পিড’ বর্ণবাদী মন্তব্যের শিকার হয়েছেন বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার পর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, বর্ণবাদ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান ‘শূন্য সহনশীলতা’ বা জিরো টলারেন্স।

যুক্তরাষ্ট্রে জমকালো আয়োজনে চলমান ২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবলের গ্যালারিতে এই অপ্রীতিকর ও বর্ণবাদী আচরণের ঘটনাটি ঘটেছে। মঙ্গলবার এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে আন্তর্জাতিক ফুটবল ফেডারেশন (ফিফা) জানায়, যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত আর্জেন্টিনা বনাম কেপ ভার্দের হাইভোল্টেজ ম্যাচ চলাকালীন জনপ্রিয় কন্টেন্ট ক্রিয়েটর ও ইউটিউবার আইশোস্পিডের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনাটিকে তারা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। ফুটবলের মতো একটি বৈশ্বিক মঞ্চে এমন আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় জানিয়ে সংস্থাটি ইতিমধ্যেই এর বিরুদ্ধে একটি আনুষ্ঠানিক ও নিবিড় তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে।

ফিফার বিবৃতিতে সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়, গত ৩ জুলাই মিয়ামি স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনা ও কেপ ভার্দের মধ্যকার ম্যাচটি চলাকালে গ্যালারিতে উপস্থিত এক দর্শক এবং আইশোস্পিডের মধ্যে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পরপরই এবং ফিফার নজরে আসার সাথে সাথেই এর পেছনের প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনে তদন্ত কমিটি মাঠে নেমেছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় তুমুল জনপ্রিয় এই তরুণ ইউটিউবারের আসল নাম ড্যারেন ওয়াটকিনস জুনিয়র, যিনি বিশ্বজুড়ে ‘আইশোস্পিড’ নামেই সমধিক পরিচিত। চলতি ২০২৬ বিশ্বকাপে তিনি কেবল একজন সাধারণ দর্শক বা সমর্থক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন না; বরং আন্তর্জাতিক ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা ফিফা, যুক্তরাষ্ট্রের অফিশিয়াল সম্প্রচার সহযোগী ফক্স স্পোর্টস এবং খোদ ইউটিউব কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একটি বিশেষ ত্রিপক্ষীয় চুক্তির অংশ হিসেবে তিনি টুর্নামেন্টের বিভিন্ন হাইভোল্টেজ ম্যাচে মাঠে উপস্থিত থাকছেন এবং গ্যালারি থেকে সরাসরি লাইভ স্ট্রিম বা সম্প্রচার করছেন।

উত্থাপিত সুনির্দিষ্ট অভিযোগ অনুযায়ী, মিয়ামির গ্যালারিতে আর্জেন্টিনা ও কেপ ভার্দের ম্যাচটি যখন টানটান উত্তেজনায় চলছিল, তখন পাশেই থাকা এক দর্শক স্প্যানিশ ভাষায় আইশোস্পিডকে উদ্দেশ্য করে সরাসরি গায়ের রঙ নিয়ে আপত্তিকর ও বর্ণবাদী মন্তব্য ছুড়ে দেন। স্প্যানিশ ভাষা বুঝতে পেরে ক্ষুব্ধ ও বিস্মিত স্পিড তাৎক্ষণিকভাবে ওই সমর্থকের দিকে ঘুরে দাঁড়ান এবং তীব্র প্রতিবাদের সুরে জানতে চান যে তাকে ঠিক কী বলা হয়েছে। পুরো ঘটনার এই ভিডিও চিত্রটি পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিদ্যুৎ গতিতে ছড়িয়ে পড়ে এবং বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও সমালোচনার জন্ম দেয়।

ফিফা তাদের বিবৃতিতে বর্ণবাদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঙ্কার দিয়ে আরও বলেছে, বিশ্বকাপ কেবল মাঠের ভেতরের একটি সাধারণ ফুটবল প্রতিযোগিতা বা ট্রফি জয়ের লড়াই নয়; এটি বৈশ্বিক ঐক্য, সংস্কৃতির বৈচিত্র্য এবং একে অপরের প্রতি পারস্পরিক সম্মানের এক অনন্য প্রতীক। যারা ফুটবলের এই সুন্দর মূল্যবোধের পরিপন্থী যেকোনো ধরনের আচরণ বা ঘৃণ্য কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হবে, তাদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ কঠোর আইনি ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ফুটবলের এই অভিভাবক সংস্থাটি বিশ্ববাসীর সামনে পুনর্ব্যক্ত করেছে যে, বর্ণবাদ, ঘৃণা ও যেকোনো ধরনের সামাজিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান সবসময়ই আপোষহীন থাকবে এবং দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে স্টেডিয়ামে প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ করাসহ প্রয়োজনীয় সব ধরনের কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

তাসনিম হোসেন