স্পেনের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য বন্ধের ঘোষণা দিলেন ট্রাম্প

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৮ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩৪ পিএম

ফাইল ছবি

ইরানকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট সামরিক উত্তেজনার জেরে এবার ইউরোপীয় মিত্র দেশ স্পেনের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার (৮ জুলাই) তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় চলমান ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিয়ে তিনি এই বৈপ্লবিক ও কঠোর সিদ্ধান্ত জানান।

বিশ্ব রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় ধরনের ধাক্কা দিয়ে স্পেনের বিরুদ্ধে এই চরম শাস্তিমূলক পদক্ষেপের ঘোষণা দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কাতারভিত্তিক প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, আঙ্কারায় ন্যাটোর হাইপ্রোফাইল সম্মেলনের মঞ্চ থেকে ট্রাম্প জানান যে, তিনি ইতিমধ্যেই মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টকে স্পেনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সব ধরনের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য অবিলম্বে বন্ধ করার জন্য সুনির্দিষ্ট নির্দেশ জারি করেছেন। একই সঙ্গে সামরিক জোট ন্যাটোর দীর্ঘদিনের সহযোগী হওয়া সত্ত্বেও স্পেনকে একটি ‘ভয়ানক অংশীদার’ বা চরম অবিস্বস্ত সহযোগী বলে তীব্র ভাষায় আখ্যায়িত করেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের এমন নজিরবিহীন ক্ষোভের পেছনে রয়েছে এক চাঞ্চল্যকর কূটনৈতিক ও সামরিক ইতিহাস। জানা গেছে, গত মার্চ মাসে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক বাহিনী যখন বড় ধরনের অভিযান শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছিল, তখন স্পেন তাদের ভূখণ্ডে অবস্থিত যৌথ সামরিক ঘাঁটিগুলো ব্যবহার করার অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানায়। শুধু তাই নয়, মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলোর নির্বিঘ্নে ওড়ার জন্য নিজেদের আকাশসীমাও সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছিল মাদ্রিদ। স্পেনের এই স্বাধীন ও অনমনীয় অবস্থানের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক পরিকল্পনা বড় ধরনের বাধার মুখে পড়ে। আর সেই ঘটনার প্রতিশোধ ও খেসারত হিসেবেই ট্রাম্প এই কঠোর বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের পদক্ষেপ নিয়েছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে কেবল স্পেন নয়, চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইরানকে নিয়েও কড়া বার্তা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তেহরানের সঙ্গে আগের সম্পাদিত সমঝোতা চুক্তি বা অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তি নিয়ে কথা বলার সময় ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দেন, “আমার দৃঢ় ধারণা, ইরানের সঙ্গে আমাদের হওয়া সেই সমঝোতা স্মারকটি এখন পুরোপুরি শেষ হয়ে গেছে।” এর মাধ্যমে তিনি স্পষ্ট করলেন যে, ওয়াশিংটন এখন তেহরানের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক সামরিক ও অর্থনৈতিক লড়াইয়ের পথেই হাঁটছে।

প্রেসিডেন্টের এই বার্তার সমান্তরালে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের ওপর মার্কিন সামরিক বাহিনীর তাণ্ডবের এক নতুন খতিয়ান প্রকাশ করেছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। এক বিশেষ বিবৃতিতে সেন্টকম জানিয়েছে, তাদের সর্বশেষ বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইরানের ভেতরে থাকা অত্যন্ত সংবেদনশীল ৮০টি নির্দিষ্ট সামরিক স্থাপনায় নিখুঁতভাবে আঘাত হানা হয়েছে। এই ধ্বংসাত্মক অভিযানের মূল লক্ষ্যবস্তু ছিল ইরানের অত্যাধুনিক বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, সামরিক কমান্ড ও কন্ট্রোল নেটওয়ার্ক, উপকূলীয় শক্তিশালী রাডার স্টেশন এবং জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ সক্ষমতা।

সেন্টকম আরও দাবি করেছে যে, আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহের প্রধান রুট হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর ইরানের আচমকা হামলার সক্ষমতা চিরতরে গুঁড়িয়ে দিতে তারা বড় ধরনের সাফল্য পেয়েছে। মার্কিন হামলায় ইরানের এলিট ফোর্স ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) ৬০টিরও বেশি ছোট ও মাঝারি আকারের সামরিক নৌকা বা গানবোট ধ্বংস করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে যাওয়া তিনটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের আগ্রাসী হামলার জবাবেই এই বিশাল ও বিধ্বংসী পাল্টা অভিযান চালানো হয়েছে বলে ওয়াশিংটন দাবি করেছে।

যদিও আমেরিকার এই ভয়াবহ হামলার ব্যাপারে ইরান সরকার বা তাদের সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে এখনো পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য বা প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে পরিস্থিতি যে অত্যন্ত ভয়াবহ, তার ইঙ্গিত মিলছে খোদ ইরানি গণমাধ্যমেই। ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি এক জরুরি বুলেটিনে জানিয়েছে, দেশটির কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কেশম দ্বীপে আবারও বিকট শব্দের একাধিক বিস্ফোরণ শোনা গেছে। এর পাশাপাশি হরমুজ প্রণালির তেল সমৃদ্ধ খার্গ দ্বীপেও বড় ধরনের বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে, যা ওই অঞ্চলে মার্কিন আগ্রাসনের তীব্রতাকেই প্রমাণ করে।

তাসনিম হোসেন