চলতি ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে আইভরি কোস্টকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে এক নতুন রূপকথার জন্ম দিয়েছে নরওয়ে। বিশ্বকাপের নকআউট বা বিদায়ি পর্বে এটিই নরওয়েজিয়ান ফুটবল ইতিহাসের সর্বপ্রথম জয়। ১৯৩৮ এবং ১৯৯৮ সালের নকআউট পর্বের দীর্ঘ হতাশা পেছনে ফেলে ঐতিহাসিক এই জয় নিশ্চিত হতেই নরওয়ের ড্রেসিংরুমে শুরু হয় বাঁধভাঙা উল্লাস।
ম্যাচ জয়ের পর নরওয়ের ড্রেসিংরুমের একটি আবেগঘন ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) শেয়ার করেছে ‘প্ল্যানেটা দো ফুতবল’। সেখানে দেখা যায়, দলের প্রধান কোচ স্তালে সোলবাকেন নরওয়েজিয়ান ভাষায় ফুটবলারদের উদ্দেশ্যে এক অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য রাখছিলেন। তবে বক্তব্যের শেষ মুহূর্তে নাটকীয়ভাবে ইংরেজি ভাষায় সরাসরি ব্রাজিলের হেজার্ড বা ডাগআউটের গুরু কার্লো আনচেলত্তিকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন তিনি। উত্তেজিত সোলবাকেন চিৎকার করে বলেন, "কার্লো আনচেলত্তি, আমরা আসছি!" কোচের এমন সাহসী ও রসাত্মক ঘোষণায় পুরো ড্রেসিংরুমে হাসির রোল পড়ে যায় এবং ফুটবলাররা তুমুল করতালির মাধ্যমে তা উদযাপন করেন। দলের পোস্টার বয় আর্লিং হালান্ডও এই অবিস্মরণীয় মুহূর্তের একটি ছবি ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করে ক্যাপশনে লিখেছেন, "এমন একটা দিন, যা আমরা কোনোদিন ভুলব না।"
মাঠের লড়াই ও নুসার রেকর্ড
অবশ্য এই জয় সহজে ধরা দেয়নি নরওয়ের হাতে। ম্যাচের শুরু থেকেই আফ্রিকান পরাশক্তি আইভরি কোস্ট বেশ আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে আধিপত্য বজায় রেখেছিল। ম্যাচের শুরুতেই উইঙ্গার নিকোলাস পেপের একটি জোরালো শট চমৎকার দক্ষতায় রুখে দিয়ে দলকে রক্ষা করেন নরওয়েজিয়ান গোলরক্ষক অরিয়ান নিল্যান্ড।
ধীরে ধীরে নিজেদের ছন্দ ফিরে পেয়ে ম্যাচের ৩৯ মিনিটে ডেডলক ভাঙে নরওয়ে। অধিনায়ক ও আর্সেনাল তারকা মার্টিন ওডেগার্ডের নিখুঁত এক পাস থেকে বল পান ২১ বছর বয়সী তরুণ তুর্কি আন্তোনিও নুসা। ডি-বক্সের কোনা থেকে দুর্দান্ত এক বাঁকানো শটে বল জালের উপরের কোণায় জড়িয়ে দেন তিনি। এই গোলের মাধ্যমে বড় কোনো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে নরওয়ের সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতা হিসেবে রেকর্ডের পাতায় নাম লেখান নুসা।
দিয়ালোর গোল ও হালান্ডের ৬০তম মাইলফলক
দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচে ফিরতে মরিয়া আইভরি কোস্ট একের পর এক আক্রমণ সাজায়। ম্যাচের ৭৪ মিনিটে বদলি হিসেবে নামা আমাদ দিয়ালো নিজের একক নৈপুণ্যে এবং পেপের সঙ্গে দুর্দান্ত ওয়ান-টু-ওয়ান পাসিংয়ের মাধ্যমে নরওয়ের রক্ষণভাগ ভেঙে ১-১ সমতা আনেন।
ম্যাচ যখন অতিরিক্ত সময়ের দিকে গড়াচ্ছিল, ঠিক তখনই জ্বলে ওঠেন ম্যানচেস্টার সিটির গোলমেশিন আর্লিং হালান্ড। ৮৬ মিনিটে অস্কার বব এবং প্যাট্রিক বার্গের দারুণ বোঝাপড়ায় আইভরি কোস্টের রক্ষণভাগ পুরোপুরি খেই হারিয়ে ফেলে। তাদের বাড়িয়ে দেওয়া বল থেকে অত্যন্ত কাছ থেকে আলতো টোকায় বল জালে পাঠান হালান্ড। নাটকীয় এই জয়সূচক গোলের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিজের ৬০তম গোলের দুর্দান্ত মাইলফলক স্পর্শ করেন এই তারকা স্ট্রাইকার।
আইভরি কোস্টকে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় করে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে এবার পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে নরওয়ে। অন্য এক হাইভোল্টেজ ম্যাচে জাপানকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে শেষ ১৬ নিশ্চিত করেছে সেলেসাওরা। আগামী সোমবার (৬ জুলাই) এই ব্লকবাস্টার ম্যাচটি স্তালে সোলবাকেনের শিষ্যদের জন্য হতে যাচ্ছে চলতি বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় অগ্নিপরীক্ষা।