মামলা দিয়ে শিক্ষক নিয়োগ আটকে রাখলে কঠোর ব্যবস্থা: শিক্ষামন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ২৪ জুন ২০২৬, ০৭:৩৫ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

আদালতে মামলা করে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া আটকে দেওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। আজ বুধবার (২৪ জুন) সকালে আজিমপুর গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার কেন্দ্রসচিবদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।

মতবিনিময় সভায় শিক্ষামন্ত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ৯ মাসের পিটিআই ট্রেনিং, পিএসসির ব্যাকলগ কিংবা এনটিআরসিএর শিক্ষক নিয়োগ—সব খাতেই মামলার কারণে এক ধরনের অচলাবস্থা তৈরি করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে ১৫ হাজার শিক্ষক চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হওয়ার পরও মামলার বেড়াজালে তাদের নিয়োগ আটকে দেওয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট একটি গোষ্ঠী ও অ্যাসোসিয়েশনের কিছু ব্যক্তি এই মামলার পেছনে সক্রিয় রয়েছে এবং সরকার তাদের সনাক্ত করার কাজ শুরু করেছে।

তিনি আরও বলেন, যারা দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ও জাতি গঠনের অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করে, তারা মূলত রাষ্ট্র ও দেশের শত্রু। এই স্পর্শকাতর বিষয়টি মহামান্য আদালতের নজরেও আনা হয়েছে এবং সরকার এদের বিরুদ্ধে খুব শীঘ্রই কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

পরীক্ষায় নকলের প্রবণতা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে শিক্ষামন্ত্রী উল্লেখ করেন, প্রচলিত সনাতন পদ্ধতির নকল এখন প্রায় বন্ধ। তবে ভাইরাসের ভ্যারিয়েন্টের মতো নকলের ধরন ও রূপ বদলেছে। এই অপরাধের রাশ টানতে ১৯৮০ সালের পাবলিক পরীক্ষা আইন সংশোধন করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে মন্ত্রিসভায় এটি অনুমোদিত হয়েছে এবং চলতি সংসদ অধিবেশনেই এটি পাস হবে।

নতুন এই আইনের প্রয়োগ সম্পর্কে মন্ত্রী ব্যাখ্যা করেন, কোনো কেন্দ্রে নকল পাওয়া গেলে এবং পরীক্ষার্থী যদি অপ্রাপ্তবয়স্ক (১৬ বছর বয়সী) হয়, তবে তাকে সরাসরি বড় শাস্তি না দিয়ে প্রভিশনে পাঠানো হতে পারে। তবে যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই নকলের ঘটনা ঘটবে, তার সম্পূর্ণ দায়ভার বহন করতে হবে প্রতিষ্ঠান প্রধানকে। অপরাধের জন্য তাকেই সরাসরি আইনের আওতায় এনে শাস্তির মুখোমুখি করা হবে।

তাসনিম হোসেন