২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ প্রকল্প: সিরাজগঞ্জে ভেজাল সার বিতরণের অভিযোগ

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ২৪ জুন ২০২৬, ০৯:২২ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

সরকার ঘোষিত পাঁচ বছর মেয়াদি ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আওতায় সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে ফলদ ও বনজ চারা বিতরণের সময় কৃষকদের মাঝে জৈব সারের পরিবর্তে পলিথিন ও ময়লা-আবর্জনা মিশ্রিত মাটি বিতরণের অভিযোগ উঠেছে। আজ বুধবার (২৪ জুন) দুপুরে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর চত্বরে এই ঘটনা ঘটে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০ Trials ২৫-২৬ অর্থবছরে কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রণোদনা কর্মসূচির অংশ হিসেবে উপজেলার ২০০ জন চাষী ও ১০০টি প্রতিষ্ঠানের মাঝে বিভিন্ন জাতের ফলদ, ওষুধি ও কাঠ গাছের চারা বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। দুই দিনব্যাপী এই কর্মসূচিতে ১ হাজার ৫০০টি গাছের চারা এবং লেবুর আবাদ বাড়াতে আরও ৩০ জন কৃষকের মাঝে ১৫০টি লেবুর চারা বিতরণের কথা রয়েছে। পাশাপাশি চারা রোপণের জন্য গাছ প্রতি ৩০ কেজি করে জৈব সার দেওয়ার নিয়ম রয়েছে।

আজ বুধবার বিকেলে চারা ও সার বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধনের সময় ঘটে এই বিপত্তি। উপস্থিত কৃষকরা দেখতে পান, জৈব সারের নামে সরবরাহ করা বস্তাগুলোতে পলিথিন, প্লাস্টিক ও ময়লা-আবর্জনাযুক্ত সাধারণ মাটি ভরা রয়েছে। এই জালিয়াতি দেখে ক্ষোভে ফেটে পড়েন উপকারভোগীরা। উপজেলার বাড়াকান্দি গ্রামের আলতাফ হোসেনসহ একাধিক কৃষক জানান, সারের নামে মাটি দেওয়ায় তারা ক্ষুব্ধ হয়ে অধিকাংশ বস্তা ফেলে রেখে শুধু গাছের চারা ও চারা বাঁধার বাঁশের খুঁটি নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন।

বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর কামারখন্দ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রতন চন্দ্র বর্মন জানান, যেসব বস্তায় ভেজাল ও নিম্নমানের সার পাওয়া গেছে, সেগুলো বাদ দিয়ে ভালো সার বাছাই করে নিতে কৃষকদের অনুরোধ করা হয়েছে। যে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে এই সার কেনা হয়েছিল, ভেজাল সারগুলো তাদের কাছেই ফেরত পাঠানো হবে।

এই বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ড. বিপাশা হোসাইন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আওতায় এই চারা বিতরণ করা হচ্ছিল। বিতরণস্থলে জৈব সারের নামে ময়লা-মাটি দেওয়ার অভিযোগ পাওয়ার পরপরই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সরবরাহকারীকে ওইসব সার তাৎক্ষণিকভাবে ফেরত দিয়ে নতুন করে মানসম্মত ও আসল জৈব সার এনে পুনরায় কৃষকদের মাঝে বুঝিয়ে দেওয়ার কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তাসনিম হোসেন