যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী নজিরবিহীন ও বীরত্বপূর্ণ প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে বলে দাবি করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি জানান, আক্রমণকারী দেশ দুটি তেহরানের এমন কঠোর জবাবের কথা কল্পনাও করতে পারেনি। এই বীরত্বপূর্ণ লড়াইয়ের মাধ্যমে ইরান বর্তমানে বিশ্বমঞ্চে একটি অত্যন্ত শক্তিশালী ও আত্মমর্যাদাশীল রাষ্ট্র হিসেবে নিজের অবস্থান সুপ্রতিষ্ঠিত করেছে।
গত বুধবার (২৪ জুন) তেহরানে আয়োজিত এক রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান দেশটির ওপর চাপিয়ে দেওয়া সাম্প্রতিক যুদ্ধের নেপথ্য কারণ ও শত্রুভাবাপন্ন রাষ্ট্রগুলোর গোপন চক্রান্তের কথা জনগণের সামনে তুলে ধরেন।
মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের মূল উদ্দেশ্য প্রকাশ করে তিনি সরাসরি বলেন, “আমাদের শত্রুরা এই ধারণা নিয়ে যুদ্ধ শুরু করেছিল যে, তারা মাত্র তিন দিনের মধ্যে ইসলামী প্রজাতন্ত্রের পতন ঘটাবে। তাদের পরিকল্পনা ছিল ইরানের বুকে নিজেদের অনুগত একটি পুতুল সরকার বসানো।”
দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনীর অসামান্য ভূমিকার প্রশংসা করে পেজেশকিয়ান আরও বলেন, “আমাদের বীর সেনারা রণক্ষেত্রে এমন এক অবিস্মরণীয় প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে যা শত্রুপক্ষের কল্পনাতীত ছিল।” তিনি উল্লেখ করেন, ইরানি বাহিনীর এই অনমনীয় অবস্থান ও সুনির্দিষ্ট পাল্টা আঘাতের কারণেই শেষ পর্যন্ত পশ্চিমা পরাশক্তিগুলো তাদের যুদ্ধকৌশল বদলে ফেলতে বাধ্য হয়েছে।
উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যের এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের শুরুর দিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অত্যন্ত কঠোর ভাষায় ইরানের কাছে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের দাবি জানিয়েছিলেন। তবে তেহরানের জোরালো সামরিক প্রতিরোধ এবং রণক্ষেত্রে ওয়াশিংটনের উদ্দেশ্য পূরণ না হওয়ায় পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন ঘটে।
ফলশ্রুতিতে, দীর্ঘদিনের বৈরিতা ভুলে এই দুই রাষ্ট্র বর্তমানে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক রাজনৈতিক সমীকরণে এসে নিজেদের মধ্যকার বিরোধ মেটাতে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক আলোচনার টেবিলে বসতে বাধ্য হয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা