শরীয়তপুরের জাজিরায় এক ব্যবসায়ীর কাছে চাঁদা দাবি, দোকানে লুটপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান জবরদখলের মামলায় উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি সুরুজ মাদবর ও তার ছেলে স্বাধীন মাদবরকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। আজ বুধবার (২৪ জুন) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বাদী পক্ষের আইনজীবী দিপু মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শরীয়তপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আয়েশা আক্তারের আদালতে হাজির হয়ে আসামিরা জামিনের আবেদন করেন। আদালত উভয় পক্ষের শুনানি শেষে জামিন আবেদন নাকচ করে তাদের জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার নথিসূত্রে জানা গেছে, জাজিরা উপজেলার মানিকনগর এলাকার বাসিন্দা ছোবহান মাদবরের কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন স্থানীয় বিএনপি নেতা সুরুজ মাদবর ও তার ছেলে স্বাধীন মাদবর। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে গত বছরের ২ ডিসেম্বর রাতে কাজীরহাট এলাকায় ছোবহান মাদবরের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালানো হয়। এ সময় মালামাল লুটপাট, নগদ টাকা আত্মসাৎ এবং প্রায় ৪০ লাখ টাকার ক্ষতি সাধন করে দোকানটি দখল করে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
এই ঘটনার পর গত বছরের ১২ ডিসেম্বর শরীয়তপুরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতে মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী। মামলাটি আমলে নিয়ে চলতি বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি আদালত সুরুজ মাদবর ও স্বাধীন মাদবরের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। তবে পরোয়ানা জারির পরও আসামিরা দীর্ঘদিন প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ানোয় স্থানীয়ভাবে তীব্র সমালোচনা সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে গত এপ্রিল মাসে তারা হাইকোর্ট থেকে আট সপ্তাহের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন লাভ করেন। সেই জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ায় মঙ্গলবার তারা জেলা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করলে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
মামলার বাদী সোবহান মাদবর বলেন, "চাঁদা না দেওয়ায় বিএনপি নেতা ও তার ছেলে আমার দোকানে ভাঙচুর-লুটপাট চালিয়ে সেটি দখল করে নেয়। আমি সঠিক বিচারের আশায় আদালতের দ্বারস্থ হয়েছি এবং আশা করি ন্যায়বিচার পাব।"
এ প্রসঙ্গে জাজিরা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক টিটু আখন্দ জানান, বিষয়টি জানার পর তারা জেলা পর্যায়ের নেতাদের অবহিত করেছিলেন। সুরুজ মাদবর এখনো উপজেলা কমিটির সহ-সভাপতি পদে বহাল রয়েছেন। অন্যদিকে, উপজেলা বিএনপির সভাপতি বজলুর রশিদ শিকদার বলেন, "দলের কেউ যদি কোনো অনৈতিক বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত হন, তবে তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
বাদী পক্ষের আইনজীবী দিপু মিয়া বলেন, "আমার মক্কেলের দায়ের করা মামলায় বিজ্ঞ আদালত আসামিদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠিয়েছেন। আমরা বিশ্বাস করি, আদালতে আমার মক্কেল চূড়ান্ত ন্যায়বিচার পাবেন।"