খামেনির জানাজায় লাল পতাকায় প্রতিশোধের ডাক ইরানিদের

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৪ জুলাই ২০২৬, ০৮:২৪ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে শোকার্ত জনতা ‘প্রতিশোধের’ প্রতীক লাল পতাকা নিয়ে রাজপথে নেমেছেন। শনিবার (৪ জুলাই) রাজধানী তেহরানে লাখ লাখ মানুষ এই পতাকা হাতে ঘাতকদের বিরুদ্ধে বদলা নেওয়ার আহ্বান জানান।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ইরানের এই লাল পতাকার প্রতীকী গুরুত্বের বিষয়টি বিশেষভাবে উঠে এসেছে। কাতারভিত্তিক প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশিষ্ট গবেষণা ফেলো মোহাম্মদ ইসলামি এই পরিস্থিতির ব্যাখ্যা দেন। তিনি বলেন, "খামেনির ভক্ত ও অনুসারীরা এই লাল পতাকাকে মূলত অন্যায়ের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত প্রতিশোধের একটি ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় প্রতীক হিসেবে সামনে নিয়ে এসেছেন।"

মোহাম্মদ ইসলামি আরও উল্লেখ করেন, এই রক্তলাল পতাকার প্রদর্শনীর মাধ্যমে সাধারণ জনগণ ইরান সরকারের নীতিনির্ধারকদের কাছে একটি সুনির্দিষ্ট ও স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছেন। তারা চান, যারা তাদের পরম শ্রদ্ধেয় সর্বোচ্চ নেতাকে কাপুরুষোচিতভাবে হত্যা করেছে, তাদের বিরুদ্ধে যেন অতি দ্রুত কঠোরতম প্রতিশোধ নেওয়া হয়। তিনি বিশ্ববাসীকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি কেবল একটি রাষ্ট্রের প্রধান বা political ব্যক্তিত্ব ছিলেন না; বরং শিয়া মুসলিম বিশ্বে তাঁর অবস্থান ছিল অত্যন্ত উচ্চতর, স্পর্শকাতর এবং প্রতীকী। ফলে তাঁর এই বিদায় ইরানিদের ধর্মীয় ও জাতীয় আবেগকে চরমভাবে নাড়া দিয়েছে।

এদিকে, ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম এই জানাজায় অংশ নিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তেহরানে ধেয়ে আসা লাখ লাখ তীর্থযাত্রী ও সাধারণ মানুষের আবাসন নিশ্চিত করতে ইরান সরকার এক নজিরবিহীন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। রাজধানী তেহরানসহ দেশের বিভিন্ন প্রদেশে তীর্থযাত্রীদের সাময়িক থাকার ব্যবস্থা করার জন্য একযোগে ৫ হাজারেরও বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ‘আইএসএনএ’ দেশের শিক্ষামন্ত্রীর বরাত দিয়ে নিশ্চিত করেছে যে, খামেনির জানাজা ও দাফন প্রক্রিয়ায় শরিক হতে আসা সাধারণ মানুষের সুবিধার কথা চিন্তা করে তেহরান ও এর আশপাশের অঞ্চলে ৫ হাজারের বেশি স্কুল এবং প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার শ্রেণিকক্ষ পুরোপুরি প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সেখানে দূর-দূরান্ত থেকে আসা মানুষের রাতযাপন ও বিশ্রামের সকল সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হচ্ছে।

সরকারি ও বিভিন্ন সংস্থার বৈশ্বিক প্রতিবেদনে ধারণা করা হচ্ছে, সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির এই ঐতিহাসিক শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে কেবল রাজধানী তেহরানেই এক কোটিরও বেশি শোকার্ত মানুষের সমাগম ঘটতে পারে। এছাড়া, ইরানের এই কঠিন শোকের মুহূর্তে সংহতি প্রকাশ করতে এবং শেষকৃত্যের আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নিতে ইতোমধ্যে বিশ্বের ১০০টিরও বেশি দেশের উচ্চপর্যায়ের সরকারি প্রতিনিধি, কূটনীতিক ও বিদেশি অতিথিরা তেহরানে এসে উপস্থিত হয়েছেন। এর ফলে পুরো তেহরান জুড়ে এখন কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে।

তাসনিম হোসেন