সিনিয়র-জুনিয়র দ্বন্দ্বে প্রাণ গেল কিশোর নাঈমের, আহত ২

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৪ জুলাই ২০২৬, ০৯:২২ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে সিনিয়র-জুনিয়র দ্বন্দ্ব ও পূর্ব বিরোধের জেরে কিশোরদের দুই পক্ষের মধ্যে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে নাঈম মোল্লা (১৬) নামে এক কিশোর গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। এ ঘটনায় আরও দুই কিশোর মারাত্মক জখম হয়েছে। শুক্রবার (৪ জুলাই) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের আগানগর ইউনিয়নের আমবাগিচা এলাকার ডিপজলের গলিতে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র থেকে জানা গেছে, নিহত কিশোর নাঈম মোল্লা মূলত মানিকগঞ্জ জেলার শিবালয় উপজেলার জাফরগঞ্জ গ্রামের মজিদ মোল্লার ছেলে। সে দীর্ঘ দিন ধরে তার পরিবারের সাথে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের আমবাগিচা পানির ট্যাংকি এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করে আসছিল। নাঈম স্থানীয় একটি প্যান্ট তৈরির কারখানায় দর্জি শ্রমিক হিসেবে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করত। এই সংঘর্ষের ঘটনায় আহত অন্য দুই কিশোর হলো রবিন (১৬) ও তাজ (১৭)। এদের মধ্যে তাজকে উন্নত চিকিৎসার পাশাপাশি জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ তাদের নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে।

এলাকাবাসী ও পুলিশ জানায়, গত বেশ কিছু দিন ধরে স্থানীয় কিশোরদের দুটি পক্ষের মধ্যে অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে উত্তেজনা চলছিল। তারই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার দিবাগত মধ্যরাতে আমবাগিচা এলাকার ডিপজলের গলিতে দুই পক্ষের কিশোরেরা লাঠিসোটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের একপর্যায়ে প্রতিপক্ষের ধারালো অস্ত্রের এলোপাতাড়ি আঘাতে নাঈম মোল্লা রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। ঘটনার পর আশপাশের বাসিন্দারা দ্রুত এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা গুরুতর জখম অবস্থায় নাঈমকে উদ্ধার করে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

একই সংঘর্ষের ঘটনায় আহত রবিনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং সে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছে। অপরদিকে প্রতিপক্ষের আহত কিশোর তাজ মিটফোর্ড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ তাকে আটক করে নিজেদের নজরদারিতে নেয়।

ঘটনার পটভূমি অনুসন্ধান করে পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, রক্তক্ষয়ী এই সংঘর্ষের মূল সূত্রপাত হয়েছিল আসলে তাজ ও রবিনের মধ্যকার ব্যক্তিগত বিরোধ থেকে। বিগত পবিত্র রমজান মাসে তারাবির নামাজ পড়ার সময় তাদের মধ্যে প্রথম কথা-কাটাকাটি ও দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। এরপর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত থাকলেও গত কয়েকদিন আগে বুড়িগঙ্গা নদীতে নৌকায় পারাপারের সময় তাদের মধ্যে আবারও ‘সিনিয়র-জুনিয়র’ প্রথা নিয়ে চরম বাগ্বিতণ্ডা ও হাতাহাতি হয়। সেই পুরনো ক্ষোভ ও বিরোধের জেরে শুক্রবার রাতে দুই পক্ষ আমবাগিচায় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে জড়ো হয়। নিহত নাঈম মোল্লা মূলত কোনো পক্ষের সাথে সরাসরি জড়িত ছিল না; সে বন্ধুদের মাঝে বিরোধ মেটাতে বা পরিস্থিতি দেখতে তৃতীয় পক্ষ হিসেবে ঘটনাস্থলে গিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে হামলার শিকার হয় এবং প্রাণ হারায়।

দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পাওয়ার পর পরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং আলামত সংগ্রহ করেছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বর্তমানে মিটফোর্ড হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ পুরোপুরি উদঘাটনে পুলিশি তদন্ত চলছে। ঘটনার সাথে জড়িত অন্য অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য বিশেষ অভিযান চালানো হচ্ছে। তদন্ত শেষে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তাসনিম হোসেন