সরকারের ১৮০ দিন পূর্তি উপলক্ষে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ৬ দফা নির্দেশনা

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৪ জুলাই ২০২৬, ০৯:২৫ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

বর্তমান সরকারের ১৮০ দিন পূর্তি উপলক্ষে দেশের সকল সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের সার্বিক পরিচ্ছন্নতা, তদারকি এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মস্থলে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে কঠোর ছয় দফা নির্দেশনা জারি করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একই সঙ্গে আগামী ১৭ আগস্টের মধ্যে দেশের সব স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে বায়োমেট্রিক হাজিরা নিশ্চিত করার জন্য আলটিমেটাম দেওয়া হয়েছে।

শনিবার (৪ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখার পরিচালক ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এই আদেশ দেওয়া হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পাঠানো ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, আগামী ১৭ আগস্ট বর্তমান সরকারের ১৮০ দিন পূর্তি হতে যাচ্ছে। এই বিশেষ উপলক্ষকে সামনে রেখে দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার মানোন্নয়ন, হাসপাতালগুলোর সার্বিক পরিবেশের দৃশ্যমান উন্নয়ন এবং চিকিৎসকসহ সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শতভাগ উপস্থিতি নিশ্চিত করতেই এই বিশেষ নির্দেশনাগুলো অবিলম্বে বাস্তবায়ন করতে হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কর্তৃক নির্দেশিত গুরুত্বপূর্ণ ছয়টি দফা নিচে বিস্তারিত দেওয়া হলো:

১. প্রতিষ্ঠান প্রধানের সার্বক্ষণিক তদারকি: দেশের সকল সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের প্রধানেরা স্ব-স্ব হাসপাতাল নিজ দায়িত্বে সার্বক্ষণিকভাবে সম্পূর্ণ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর রাখবেন। এতে কোনো প্রকার শিথিলতা প্রদর্শন করা যাবে না।

২. ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মনিটরিং: অধীনস্থ হাসপাতালগুলোর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম সঠিকভাবে চলছে কিনা, তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ নিয়মিত কঠোরভাবে মনিটর ও পর্যবেক্ষণ করবেন।

৩. প্রতি শনিবারে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান: দেশের সকল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল বা বিশেষায়িত হাসপাতালের পরিচালকেরা প্রতি শনিবার নিজ নিজ হাসপাতালে বিশেষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করবেন।

৪. বিভাগীয় পরিচালকদের জেলা হাসপাতাল পরিদর্শন: প্রত্যেক বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) নির্ধারিত তারিখসমূহে সংযুক্ত তালিকা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালসমূহ সশরীরে পরিদর্শন করবেন। পরিদর্শন শেষ হওয়ার পর একটি সচিত্র পরিদর্শন প্রতিবেদন (ছবিসহ রিপোর্ট) সরাসরি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, পরিচালক (প্রশাসন) এবং পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ) বরাবর প্রেরণ করতে হবে।

৫. সিভিল সার্জনদের উপজেলা হাসপাতাল পরিদর্শন: প্রতিটি জেলার সিভিল সার্জনরা মাসের প্রতি শনিবারে সংযুক্ত তালিকা অনুযায়ী নিজ জেলার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসমূহ সরজমিনে পরিদর্শন করবেন। পরিদর্শন শেষে তারাও একটি সচিত্র প্রতিবেদন মন্ত্রী, সচিব, মহাপরিচালকসহ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দপ্তরে জমা দেবেন।

৬. বায়োমেট্রিক হাজিরা নিশ্চিতকরণ: আগামী ১৭ আগস্ট ২০২৬ তারিখের মধ্যে দেশের সকল স্তরের স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের ডিজিটাল বায়োমেট্রিক মেশিন বাধ্যতামূলকভাবে সচল করতে হবে এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত বায়োমেট্রিক হাজিরা নিশ্চিত করতে হবে। এই নির্দেশনা বাস্তবায়নে কোনো রূপ ব্যর্থতা বা গাফিলতি দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রধানকে সম্পূর্ণ দায়ী করা হবে এবং তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এই কঠোর নির্দেশনার ফলে দেশের ঝিমিয়ে পড়া চিকিৎসা সেবা ও হাসপাতাল ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। নির্দেশনাগুলো মাঠপর্যায়ে কঠোরভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে কিনা, তা নিয়মিত তদারকি করা হবে বলেও অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে।

তাসনিম হোসেন